Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 07:01 am

মিঠাপুকুর ভুমি অফিসের ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

image

রংপুর প্রতিনিধি: ঘুষের বিনিময়ে জমির খাজনা কমিয়ে দেওয়া এবং নামজারি সংশোধনের নামে টাকা আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাতীহাট খোর্দ্দ নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা খালেকুজ্জামান তার জমির নামজারি/খারিজের ভুল দাগ-খতিয়ান সংশোধন করতে ভূমি অফিসে যান। এ সময় নাজির তৌহিদুল ইসলাম কাজটি করে দেওয়ার নামে তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও নামজারি সংশোধন না করায় নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী খালেকুজ্জামান জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

জানা গেছে, এর আগেও নানা দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৭ মার্চ তৌহিদুল ইসলামকে মিঠাপুকুর থেকে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরএম শাখায় বদলি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি গত ১২ মে পুনরায় মিঠাপুকুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে স্বপদে যোগ দেন। তিনি ফের বহাল হওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এই অফিসে মৌখিকভাবে বেশি টাকা খাজনা নির্ধারণ করা হলেও রসিদে কম টাকা দেখানো হয় এবং নামজারির জন্য গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। দ্রুত তাঁকে বদলি করা না হলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাবে বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার তৌহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে কে বা কার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে তা আমি জানি না, ওই ব্যক্তিকে আমি চিনিও না।"

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ পারভেজ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন এবং তার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি; তবে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান জানান, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি