Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 01:44 am

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল-চীনে মৃত্যু হাজার ছাড়াল

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিমালয় অঞ্চলে নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১,০০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া এই দুর্যোগের এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার দুই দেশের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এ সংখ্যা জানা গেছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে আরও ৮৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ায় দেশটির অংশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৯১৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।

নিখোঁজদের মধ্যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৬৩৯ জনও রয়েছেন।

অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের অংশে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি।

দুই দেশের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১,০০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪,৪৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৮৪৪।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহ ভেঙে পড়ে। এর ফলে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস সৃষ্টি হয়, যা পরে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক স্রোতে পরিণত হয়ে সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলোতে নেমে আসে।

প্রবল পানির স্রোত ও ভূমিধসে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে ও কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম তিব্বতের গিরং সীমান্ত চৌকিও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

দুই দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতের নাগরিক। নিখোঁজ রয়েছেন ২৭৫ জন ভারতীয় ও ১০০ জন চীনা নাগরিক।

উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নেপাল বিনা মূল্যে মরদেহ সংরক্ষণের ফ্রিজার, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, দুর্গত এলাকা পর্যবেক্ষণে রিমোট-সেন্সিং প্রযুক্তি এবং ড্রোন চেয়েছে।

উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে সহায়তা করতে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত দল পাঠিয়েছে।

তবে দুর্গম ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ও যোগাযোগে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা ১০ ঘণ্টা হেঁটে গিরং সীমান্ত চৌকিতে পৌঁছান। সেখানে চীনের অংশে কোনো ভবন বা অবকাঠামোর চিহ্নও পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

জা.অর্থনীতি/এসআই