ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাস শিডিউলে পরিবর্তন করে ঝিনাইদহ রুটের একটি ডাবল ডেকার বাস কুষ্টিয়া রুটে দেওয়ার প্রতিবাদে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির শিক্ষার্থীরা। এর আগে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে দাবি জানালেও পরবর্তীতে প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানানো হলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ঝিনাইদহ রুটে পুনরায় দুটি ডাবল ডেকার বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে আন্দোলনে নামেন ঝিনাইদহ জেলার শিক্ষার্থীরা। প্রায় ২০ মিনিট অবরুদ্ধ হওয়ায় ফটকে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাকবিতণ্ডাও হয়।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে বাস শিডিউল পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেন ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি ছিল, ঝিনাইদহ রুটে আগের মতো দুটি ডাবল ডেকার বাস চালু রাখতে হবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রোববার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাস শিডিউলে পরিবর্তন আনে। এর আগে ঝিনাইদহ রুটে দুটি ডাবল ডেকার বাস চলাচল করলেও শিডিউল পরিবর্তনের পর সেখান থেকে একটি বাস কুষ্টিয়া রুটে দেওয়া হয়। এতে ঝিনাইদহ রুটের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়।
ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক রিফাত বলেন, “আমরা স্মারকলিপি নিয়ে পরিবহন প্রশাসকের কাছে গেলে তিনি দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে প্রক্টর স্যারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিই। এরপর পরিবহন প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা হলে তিনি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান। পরবর্তীতে আমরা প্রধান ফটকে অবস্থান নেওয়ার পর প্রক্টর স্যার জানান, আমাদের দাবি ইতিমধ্যে মেনে নেওয়া হয়েছে। এরপর আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করি।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের দাবি আগেই মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রায় তিন দিন আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের চাপ বেশি থাকায় ঝিনাইদহ রুটের একটি ডাবল ডেকার বাস কুষ্টিয়া রুটে চলাচল করছে। বিষয়টি ঝিনাইদহের শিক্ষার্থীরা অবগত ছিল না। গতকাল বিষয়টি জানার পর তারা আজ আমাকে ফোন দেয়। তখনই আমি তাদের ঝিনাইদহ রুটে আগের বাসটি পুনরায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিই। কিন্তু এরপরও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে দেয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী, প্রধান ফটক আটকে শিক্ষার্থীদের চলাচল বা যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানকে একাধিকবার কল করেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, “আমি বিস্তারিত জানি না। আগামীকাল ক্যাম্পাসে এসে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটির বিস্তারিত জানবো।”
—জা. অর্থনীতি/এলএটি