Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 08:50 pm

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা, ত্রিমুখী চাপে নীলফামারীর কৃষক

image

নীলফামারী প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার খ্যাত নীলফামারীতে চলতি আমন মৌসুমে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় ক্ষেত বাঁচাতে বাড়তি খরচ, বাজারে রাসায়নিক সারের সংকট এবং পরবর্তীতে ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়। পানি, সার ও মূল্যের এই ‘ত্রিমুখী চাপে’ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ যেন মরার উপর খরার ঘা জেলার ছয় উপজেলার লক্ষ লক্ষ আমন চাষি।

চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি নীলফামারীতে। রোপণ করা আমনের চারা বাঁচিয়ে রাখতে চাষিদের সেচ পাম্পের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি ডিজেল ও বিদ্যুৎ খরচ মেটাতে গিয়ে কৃষি বাজেটে চরম টান পড়েছে। অনেক এলাকায় পানির অভাবে খেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, যা রোপণকৃত চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করছে। ফলে উৎপাদিত ফসলের ঘাটতির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বেগতিক হারে বেড়েছে কীটনাশকের দাম।

সেচ সংকটের সাথে যুক্ত হয়েছে রাসায়নিক সারের তীব্র সংকট। চাহিদামতো ডিলারদের কাছে ইউরিয়া, ডিএপি ও পটাশ সার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। খোলা বাজারে বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা, যা উৎপাদন খরচকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সদরের কৃষক জাহানুর ইসলাম জানান, এমনিতেই সেচের পেছনে অতিরিক্ত টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে, তার ওপর সারের ডিলার পয়েন্টে গেলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেসব সার। এদিকে জেলা জুড়ে ঘনঘন লোডশেডিং আর প্রিপেইড মিটারের ফলে নাস্তানাবুদ এসব কৃষক।

উৎপাদন খরচ জ্যামিতিক হারে বাড়লেও ফসল কাটার পর ধানের সঠিক দাম পাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আশঙ্কা। কৃষকদের মতে, প্রতি বছরই ভরা মৌসুমে বাজারে ধানের দাম পড়ে যায়, যার সুবিধা নেয় মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া ও সিন্ডিকেট। খেতের সেচ আর সারের চড়া দাম পরিশোধ করার পর উপযুক্ত বাজারমূল্য না পেলে এ বছর বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়বেন তারা। 

সদরের আমন চাষি ছলেমান মিয়া জানান, চলতি আমান চাষাবাদে বেশ কষ্টকর হয়েছে। তিনি জানান, পাট বিক্রি করে আমন চাষাবাদ করি। কিন্তু টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাট চাষে বিঘ্ন ঘটে। বাকীতে আমন চাষাবাদ করা হচ্ছে। আগামীতে আমনের ফলনের ফলাফল কী হবে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সম্পূরক সেচ চালুর পরামর্শ দেওয়া হলেও এবং সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। প্রান্তিক কৃষকদের দাবি, দ্রুত সারের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করা না হলে নীলফামারীর কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি