Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 05:52 am

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে সিলেটের চা শিল্পে স্থবিরতা

image

সিলেট প্রতিনিধি: তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের চা শিল্পে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। দেশের প্রধান চা উৎপাদনকারী এ অঞ্চলের বিভিন্ন বাগানের কারখানায় সময়মতো কাঁচা চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে কাটিং, রোলিং, উইদারিং ও সর্টিংসহ অধিকাংশ যন্ত্রপাতির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাসের চাপ কম থাকায় চা পাতা শুকানোর ড্রায়িং প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

ফলে এ নিয়ে চা সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বাগান মালিক, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাই ও আগস্ট চা উৎপাদনের সর্বোচ্চ সময়। এ সময়ে উৎপাদন ব্যাহত হলে তাৎক্ষণিক আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চায়ের গুণগত মান এবং বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সিলেট বিসিকের একটি সূত্র জানায়, শিল্পকারখানায় অনির্দিষ্টকালের জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিল জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তবে পরে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, সাগর উত্তাল থাকায় এলএনজি খালাসে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় গ্যাস সরবরাহও স্বাভাবিক হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে বিপুলসংখ্যক চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৯টি, মৌলভীবাজারে ৯১টি এবং হবিগঞ্জে ২৫টি চা বাগান রয়েছে। প্রতিটি বাগানে আলাদা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা না থাকলেও বড় ও কেন্দ্রীয় কারখানাগুলোতে আশপাশের একাধিক বাগানের কাঁচা চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, পুরো সিলেট অঞ্চলে চা উৎপাদনের জন্য নিবন্ধিত ও সক্রিয় কারখানার সংখ্যা আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০টি। এ অঞ্চলে এক লাখের বেশি স্থায়ী ও অস্থায়ী চা শ্রমিক কর্মরত। চা জনগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্ট মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ।

চা কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে কারখানার মেশিনারি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ চলে গেলে কাটিং, রোলিংসহ বিভিন্ন মেশিন বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরও সব মেশিন তাৎক্ষণিকভাবে চালু করা সম্ভব হয় না।

সিলেটের চা শ্রমিকদের ভ্যালী সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আটবার লোডশেডিং হচ্ছে। ফ্যাক্টরিতে একবার মেশিন বন্ধ হয়ে গেলে তা আবার চালু হতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। এর মধ্যে গ্যাসের চাপও কম থাকায় ড্রায়িং প্রক্রিয়ায় চা পাতা ঠিকমতো শুকানো যাচ্ছে না। এতে চায়ের গুণগত মানও খারাপ হচ্ছে।

চা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাই ও আগস্ট চা উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে উৎপাদন ব্যাহত হলে পুরো বছরের উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড ২০২৬ সালে সারা দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি বা ১০৪ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে চলতি মৌসুমে চা উৎপাদন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়াতে পিক-সিজনে চা বাগান ও কারখানাগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি