Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 01:59 pm

প্রিয়জনের খোঁজে হাসপাতালে ভিড় স্বজনদের

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হেলিকপ্টারের বিকট শব্দ আর অ্যাম্বুলেন্সের তীব্র সাইরেনে ভারী হয়ে উঠেছে কাঠমান্ডুর বাতাস। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় আহত ও দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মানুষদের জরুরি চিকিৎসার জন্য আকাশপথে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে।

আর কাদা-পানিতে ভেসে যাওয়া প্রিয়জন বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন শুধু এই খবরটুকু জানতে মধ্যরাতেও কাঠমান্ডুর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন শত শত স্বজন।

হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডের সামনে প্রতিটি হেলিকপ্টার অবতরণের পর তৈরি হচ্ছে এক ব্যাকুল পরিস্থিতি। স্বজনেরা ছুটে যাচ্ছেন স্ট্রেচারে থাকা আহত ব্যক্তিদের মুখ চেনার আশায়। দুর্গত এলাকা রাসুয়ায় কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক গাড়িচালকের স্ত্রী রাম কুমারী শ্রেষ্ঠা ব্যাকুল চোখে হাসপাতালের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে আছেন।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আগের রাতের পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাইনি। মোবাইলও বন্ধ। তিনি বেঁচে আছেন কি না, শুধু এটুকু জানতেই হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছি।’

বিবিসি নেপালির প্রতিবেদক শ্রীজনা শ্রেষ্ঠা জানান, দুর্যোগের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে আহত ব্যক্তিদের নিয়ে একের পর এক হেলিকপ্টার জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নামছে।

চিকিৎসকেরা নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে হাসপাতালের বাইরের পরিবেশজুড়ে শুধুই ভয়, উৎকণ্ঠা আর স্বজন হারানোর আহাজারি। প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিশ্চিত হতে মধ্যরাতের হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছেন নিখোঁজদের স্বজনেরা।

উল্লেখ্য, নেপাল পুলিশ এ পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ