Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 06:45 am

চীনের সতর্কতা: কৃত্রিম হ্রদ উপচে ফের ভাসতে পারে নেপাল

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির পর এবার একটি কৃত্রিম হ্রদ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বড় ধরনের বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, গত বুধবার তিব্বত ও নেপাল সীমান্তের গিরং সংলগ্ন লেন্দে নদীতে পাহাড় ও কাদার স্তূপ ধসে পড়ায় এই বিপর্যয় শুরু হয়। পাহাড় ধসে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নেপালের ভাটি অঞ্চলে ভটে কোশি এবং ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

এদিকে, বন্যায় উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই বেইজিং কর্তৃপক্ষ হিমালয় সীমান্ত এলাকায় একটি নতুন ঝুঁকি শনাক্ত করেছে। সিসিটিভি জানিয়েছে, চোচেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে একটি বিশাল কৃত্রিম হ্রদ (ব্যারিয়ার লেক) তৈরি হয়েছে। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় হ্রদটির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই হ্রদে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা ছিল, যা ইতিমধ্যে উপচে পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে আগামী তিন দিনে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি ওই হ্রদে জমা হতে পারে। ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিব্বত অংশের ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দুই গ্রামবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বেইজিং এবং চেংদু থেকে অগ্নিনির্বাপক ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। গিরং শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা সম্ভব হলেও বন্দর সংলগ্ন এলাকাগুলো এখনো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলের বরফ স্তর এবং ভৌগোলিক কাঠামো ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, যা ঘনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চলের জনবসতি ও অবকাঠামোর জন্য বড় হুমকি। তবে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টেও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে তিব্বতের একটি হিমবাহ হ্রদ উপচে পড়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় ৯ জনের মৃত্যুসহ নেপাল-চীন সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সূত্র: সিএনএন

—জা.অর্থনীতি/আইবিএম