মেহেরপুর প্রতিনিধি: জন্ম থেকেই থ্যালাসেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করছে মেহেরপুরের উজলপুর গ্রামের ১৬ বছরের কিশোর সাজ্জাদ। প্রতিটি দিন তার কাটছে রক্ত, চিকিৎসা আর যন্ত্রণার মধ্যে। একসময় মাসে এক ব্যাগ রক্তেই চললেও এখন প্রয়োজন হচ্ছে দুই ব্যাগ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মাসে দুইবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে।
দীর্ঘ ১৫ বছরের চিকিৎসায় ছেলের জন্য সর্বস্ব হারিয়েছে পরিবার। সাজ্জাদকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। চিকিৎসকদের মতে, এ চিকিৎসায় সম্ভাব্য খরচ হবে ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। কিন্তু কৃষক বাবা রবিউল ইসলামের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।
রবিউল ইসলাম জানান, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিজমা বিক্রি করে এতদিন ছেলের চিকিৎসা চালিয়েছেন। গত ১৪-১৫ বছরে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। এতে পৈতৃক সম্পদের বড় অংশই বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানে বসতভিটা ছাড়া তেমন কোনো সম্পদ নেই। অন্যের জমি লিজ নিয়ে কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।
শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি বন্ধুদের অবহেলাও কষ্ট দেয় সাজ্জাদকে। সে বলে, ‘ছোট থেকেই নিজেকে অসুস্থ দেখে আসছি। অসুস্থ শরীর নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গেলে তারা বলে, তুমি তো অসুস্থ, তোমার সঙ্গে কী খেলব! রোগ বাড়লে পেটে তীব্র ব্যথা হয়, হাঁটতে পারি না, শরীরে জ্বালাপোড়া করে। তখন মনে হয়, দুনিয়ায় আমার কেউ নেই।’
গত দুই বছর ধরে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের জন্য অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করছেন সাজ্জাদের বাবা। এ জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো অনুদান পাননি বলে জানান তিনি।
তবে মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আশাদুল ইসলাম বলেন, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এককালীন ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত নিয়মে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করা হলে যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
সাজ্জাদের চাওয়া খুব বেশি নয়। অন্য কিশোরদের মতো সেও স্কুলে যেতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চায়, স্বাভাবিক জীবন কাটাতে চায়। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসার বিপুল খরচ।
সাজ্জাদকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার, দেশ-বিদেশের বিত্তবান ব্যক্তি ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি