Print Date & Time : 24 October 2026 Saturday 12:37 am

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরানকে পরিকল্পনা করতে হবে: গালিবাফ

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে ইরানকে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এ মন্তব্য করেন তিনি। গালিবাফের টেলিগ্রাম চ্যানেলের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

ইরাক সফরে থাকা গালিবাফ বলেন, মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ ও কাঁচামালের দিকে তাকালে বোঝা যায়, শত্রুরা সেগুলো লুট করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরানকে আগাম পরিকল্পনা করতে হবে।

তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ ও কাঁচামালের দিকে তাকালে আপনারা বুঝতে পারবেন, আমাদের শত্রুরা সেগুলো লুট করতে আসছে। তাই এই পরিস্থিতিতে নিষ্ঠুর নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে তা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। ওয়াশিংটন বলছে, তেহরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মজিদ ইবনে আল-রেজা বলেছেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী কখনো কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি। তবে ইরানের স্বাধীনতা, ভূখণ্ড ও নিরাপত্তার ওপর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না। শুক্রবার (২১ আগস্ট) তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় জুমার নামাজের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ইরানিদের ভাষায় ‘রমজান যুদ্ধ’ নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সর্বশেষ সংঘাতে দেশটি আগের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থান থেকে প্রবেশ করেছে বলে দাবি করেন ইবনে আল-রেজা। তিনি বলেন, সর্বশেষ যুদ্ধ ইরানের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা ছিল। এতে দেশটি প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের শক্তি প্রদর্শন করেছে।

ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এই যুদ্ধ দেখিয়েছে যে নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে, তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইরানি জনগণ যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তী সংঘাতে শত্রুর ঘাঁটিতে প্রবেশ, আঞ্চলিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর সক্ষমতা ইরানের বেড়েছে। একই সঙ্গে কৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইরানের ‘চমক’ আরও উন্নত হয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি