Print Date & Time : 24 October 2026 Saturday 04:55 am

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বিদ্যুৎ সংকটে হাসনাতের চার প্রস্তাব

image

অনলাইন ডেস্ক: বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় সরকারের সামনে চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহন করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’

হাসনাতের প্রথম প্রস্তাবে বিরোধী দলের আগের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাসহ ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।

হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি ৩০ দিনের পরিকল্পনা, মধ্যমেয়াদি ৬ থেকে ১৮ মাসের কর্মপরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়গুলোতে বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিভিন্ন সুপারিশ দিয়েছেন। ভর্তুকি নীতি, জ্বালানি পরিকল্পনা, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়েও মতামত এসেছে।

নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাব জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এবং বিভিন্ন সেমিনারে আলোচিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের নিয়ে গঠিত সরকারের বড় টিমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। এনসিপির দেওয়া ৩০ দিনের জন্য পাঁচটি, মধ্যমেয়াদে ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদে চারটি সমাধান প্রস্তাব পড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনা করতে বিরোধী দলের অনুরোধে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের দাবিও জানান এনসিপির এই নেতা।

আরেক প্রস্তাবে গত ছয় মাসে প্রশাসনে ব্যাপক দলীয় পদায়নের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বা ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমরি’ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাসনাত।

তিনি দাবি করেন, এর ফলে সরকারের জ্বালানি, কন্টিনজেন্সি ও ডিজাস্টার রিকভারি পরিকল্পনা নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে ভর্তুকি কমানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জ বহাল রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মহেশখালীর এফএসআরইউতে আগুন লাগার পর রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করায়ও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। ঘটনাটি নাশকতা নাকি অবহেলার কারণে ঘটেছে, সরকার নিজেই তা নিশ্চিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাতের চতুর্থ প্রস্তাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এই কাঠামোর আওতায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে দাম নির্ধারণ করবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকবে। উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাতের দাবি, এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। শুধু সার্ভিস লেভেল অ্যাগ্রিমেন্ট (এসএলএ) এবং হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করলেই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হাসনাত বলেন, ‘আপনি বলার আগেই আমরা সমাধান দিয়েছি। আপনারা সেটা পড়ার দরকার মনে করেননি কিংবা আপনার কাছে পৌঁছানো হয়নি। তথাপি, ছয় মাসের হিসাবটা আমরা মেনে নিলাম। কিন্তু ঘড়িটা বিরোধী দলের নয়, আপনার সরকারের। মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নে যদি ছয় মাসের বেশি লাগে, সেটি আর নীতির প্রশ্ন থাকবে না, সেটি হবে সক্ষমতার ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি।’

সরকারের জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। হাসনাত বলেন, একটি কার্যকর গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে আলটিমেটাম না দিয়ে সরকারের কাজের জবাবদিহি করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রমাণিতভাবে ব্যর্থ মন্ত্রীও অযোগ্য লোক দিয়ে কৌশলগত খাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলে না। এটা হচ্ছে আই হ্যাভ নো প্ল্যান এর টেস্টিং। একটি প্র্যাক্টিসিং ডেমোক্রেসিতে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলকে আল্টিমেটাম কিংবা চ্যালেঞ্জ দেয়না বরং সরকারই তার কাজের জবাবদিহি করে।এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল জবাবদিহি করা যে, সরকার ছয় মাস ক্ষমতায়, আর দেশ এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ে কেন পড়লো! এই রাষ্ট্র কেনো অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো? সমাধান আমাদের হাতে আছে। কিন্তু ক্ষমতা  আপনার হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে, দুটোর মধ্যে কোনটির অভাবে দেশ অন্ধকারে ছিল।’