Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 06:53 am

বিচার নয়, পদোন্নতি পেয়েছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক হতভাগা বাবার আর্তনাদ

image

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ার পরও অভিযুক্ত চিকিৎসক পদোন্নতি পেয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তদুপরি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন বাতিল থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক নিয়মিত বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন নিহত প্রসূতির বাবা এবং সেনবাগ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এম এ আউয়াল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর রাতে প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে নোয়াখালী সদর উপজেলার মাইজদী এলাকার সাউথ বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে উম্মে সালমা নিশিকে। স্বজনদের অভিযোগ, রোগীকে নিয়ম মেনে ভর্তি না করে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এবং অভিভাবকের লিখিত সম্মতি ছাড়াই তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার (সিজার) করা হয়। ফলে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি ও তার নবজাতক সন্তান মারা যান।

এ ঘটনায় সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. মোহাম্মদ আক্তার হোসেন (অভি) এবং নোয়াখালী মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) জুনিয়র লেকচারার ডা. ফৌজিয়া ফরিদকে অভিযুক্ত করা হয়।

এম এ আউয়াল জানান, বিচার চেয়ে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ তিনি সুধারাম আমলি আদালতে দুই চিকিৎসকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিএমডিসির পৃথক তদন্তেও ওই চিকিৎসকদের অবহেলা ও অনিয়ম প্রমাণিত হয়।

অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে বিএমডিসি ওই দুই চিকিৎসকের ডাক্তারি নিবন্ধন তিন বছরের জন্য বাতিল করে। তবে কোনো প্রশাসনিক শাস্তি না দিয়ে উল্টো অভিযুক্ত অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আক্তার হোসেনকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, আদেশ অমান্য করে নিবন্ধন বাতিল থাকা সত্ত্বেও দুই চিকিৎসক একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে চেম্বার চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে দ্রুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিএমডিসি এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানান তিনি।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি