হিজরি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল—আরবি ভাষায় যার অর্থ প্রথম বসন্ত। প্রকৃতিতে বসন্ত যেমন শুষ্কতা ভেঙে প্রাণের জোয়ার আনে, তেমনি চৌদ্দ শ বছর আগে এই মাসেই অন্ধকার জাহেলিয়াতের বুক চিরে আগমন করেছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাই মুমিনের হৃদয়ে এই মাস ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার অনন্য অনুভূতি।
আরব তখন নিমজ্জিত ছিল পাশবিকতা আর অজ্ঞতায়। ঠিক সেই সময়ে মহান আল্লাহ পাঠালেন তাঁর রহমতের প্রতিনিধি রাসুলকে। কোরআনে এসেছে, আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি (সুরা আম্বিয়া, ১০৭)। সিরাতের বর্ণনামতে, ৫৭০ বা ৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে রবিউল আউয়াল মাসের এক সোমবার ভোরে নবিজি (সা.) এ ধরায় আগমন করেন। নিজেই বলেছিলেন, এই দিনে আমি জন্মেছি, এই দিনেই নবুওয়াত পেয়েছি। (সহিহ মুসলিম)
রবিউল আউয়াল শুধু জন্মের মাস নয়। এই মাসেই নবিজি (সা.) মক্কা থেকে মদিনার পথে হিজরত শুরু করেন এবং গড়ে তোলেন ইসলামের প্রথম স্থাপনা, মসজিদে কুবা ও মসজিদে নববি। আবার এই মাসেই, ১১ হিজরিতে, ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তাই এ মাস একই সঙ্গে আনন্দ আর বিদায়ের গভীর বেদনার সাক্ষী।
ইসলামে নবিপ্রেম ইমানের মূল স্তম্ভ। হাদিসে এসেছে, তোমাদের কেউ পরিপূর্ণ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে সবকিছুর চেয়ে প্রিয় হই। (বুখারি, মুসলিম)। আর কোরআন বলছে, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, আমাকে অনুসরণ করো। (সুরা আলে ইমরান, ৩১)
এই মাসে সোম-বৃহস্পতিবার নফল রোজা, আইয়ামে বিজের রোজা, তাহাজ্জুদ ও দরুদ-সালাম বেশি বেশি পাঠ করা উত্তম। তবে প্রকৃত নবীপ্রেম শুধু আনুষ্ঠানিকতায় নয়, তাঁর সততা, ইনসাফ, ক্ষমা ও পরোপকারী চরিত্রকে নিজের জীবনে ধারণ করাতেই এর প্রকৃত সার্থকতা।
জা.অর্থনীতি/ ওএফএ