Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 03:52 am

কফি আবিষ্কারের গল্প: ইথিওপিয়ার পাহাড় থেকে বিশ্বজয়

image

বর্তমান বিশ্বে প্রতিদিন লক্ষ কোটি মানুষ সকাল শুরু করেন এক কাপ গরম কফি দিয়ে। কিন্তু এই জনপ্রিয় পানীয়টির উৎপত্তির গল্পে লুকিয়ে আছে মুসলিম সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

ইতিহাস অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় বারোশো বছর আগে ইথিওপিয়ার পাহাড়ি এলাকায় খালিদ নামের এক আরব রাখাল কফির অসাধারণ গুণ প্রথম আবিষ্কার করেন। তিনি খেয়াল করলেন, তাঁর পালের ছাগলগুলো একধরনের লাল বেরি খাওয়ার পর হঠাৎ চঞ্চল হয়ে ওঠে এবং সারারাত জেগে থাকে। বিষয়টিতে কৌতূহলী হয়ে খালিদ সেই বেরি সংগ্রহ করে পানিতে ফুটিয়ে পান করেন। শুরুর দিকে মানুষ ফলটি সরাসরি চিবিয়ে খেত, পরে ধীরে ধীরে তা ফুটিয়ে পানীয় বানানোর রীতি চালু হয়। আরবিতে এই পানীয়ের নাম রাখা হয় 'আল-কাহওয়া', যা থেকেই পরে ইংরেজি 'কফি' শব্দটি এসেছে।

কফিকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তোলার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ইয়েমেনের সুফি সাধকদের। পঞ্চদশ শতাব্দীতে তাঁরা রাতভর ইবাদত ও জিকিরে মনোযোগ ধরে রাখার জন্য নিয়মিত কফি পান করতেন। এভাবেই সুফিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কফির প্রচলন শুরু হয়।

বণিক, পর্যটক ও হজযাত্রীদের হাত ধরে কফি দ্রুতই মক্কা-মদিনায় ছড়িয়ে পড়ে। ষোড়শ শতাব্দীতে কায়রো হয়ে তা পৌঁছায় অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ইস্তাম্বুলে, যেখানে গড়ে ওঠে পৃথিবীর প্রথম দিককার কফি হাউসগুলো — যা পরিণত হয় আড্ডা আর জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্রে।

এরপর ১৬৫০ সালে পাসকুয়া রোসি নামের এক অটোমান বণিকের উদ্যোগে লন্ডনে খোলে প্রথম কফি হাউস, যা ইউরোপীয় সমাজজীবনে বিশাল পরিবর্তনের সূচনা করে।

সংক্ষেপে বলা যায়, আজকের বিশ্বজুড়ে যে সমৃদ্ধ কফি সংস্কৃতি আমরা দেখি, তার গোড়াপত্তন মূলত করে গেছেন মুসলিম বিজ্ঞানী ও সাধকরাই।