নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: মেয়াদোত্তীর্ণ ৮৩ টনের বেশি এনার্জি ড্রিংক এবং চার টনের বেশি শ্যাম্পুসহ দুই লটের পাঁচটি কনটেইনারের পণ্য ধ্বংস করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস অকশন শেডে রোলার দিয়ে এসব পণ্য গুঁড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধ্বংস কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা দুই লটের পাঁচটি কনটেইনারের পণ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ধ্বংস করা পাঁচটি কনটেইনারের মধ্যে চারটিতে ছিল ৮৩ টনের বেশি রয়েল টাইগার এনার্জি ড্রিংক। ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর উৎপাদিত এসব পানীয়ের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। চালানটিতে মোট ১১ হাজার ৫২০ কার্টনে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ ক্যান এনার্জি ড্রিংক ছিল। এসব পণ্যের আমদানিকারক নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের গ্লোব সফট ড্রিংক লিমিটেড। চালানটির ইনভেন্টরি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর।
অন্য একটি কনটেইনারে চার টনের বেশি পারসোনাল কেয়ার পণ্য (শ্যাম্পু) ছিল। চালানটি গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকার ম্যাক পয়েন্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি এর ইনভেন্টরি করা হয়। তবে ইনভেন্টরির সময় শ্যাম্পুগুলোর উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পাওয়া যায়নি।
কাস্টমস সূত্র আরও জানায়, এসব পণ্যের অনুকূলে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ছাড়পত্র দেয়নি। ফলে সেগুলো বাজারজাতের অনুমতি মেলেনি।
ধ্বংস কার্যক্রমে কাস্টমস নিলামের সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান কেএম করপোরেশন সহযোগিতা করে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে খালাসের পর ৩০ দিনের মধ্যে বন্দর থেকে সরিয়ে নিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস না হলে আমদানিকারককে নোটিশ দেওয়া হয়। এরপরও ১৫ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস না হলে তা নিলামে তোলার সুযোগ থাকে। নিলামে বিক্রি না হলে কিংবা পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ধ্বংস কমিটির সিদ্ধান্তে সেগুলো ধ্বংস করা হয়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকা বিশেষ করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কনটেইনার সংরক্ষণে নিয়মিত বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। একই সঙ্গে শিপিং লাইনের কনটেইনারও আটকে থাকে। পণ্য ধ্বংসের পর খালি কনটেইনার সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টকে ফেরত দেওয়া হয়।
—জা.অর্থনীতি/আইবিএম