Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 09:35 am

প্রকাশ্যে এলো অং সান সু চির নতুন ছবি

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের কারাবন্দি ও গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির একটি নতুন ছবি দীর্ঘ বিরতির পর প্রকাশ্যে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকাশিত এই ছবিতে তাকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ফেডারেশনের (আইএফআরসি) একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিতে দেখা গেছে। গত আড়াই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম তিনি সরকার বা জান্তার বাইরের কোনো স্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেলেন। সোমবার (৩ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রকাশিত এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই নতুন ছবিতে দীর্ঘ অন্তরীণ থাকার পরও তাকে শারীরিকভাবে বেশ সুস্থ ও স্বাভাবিক দেখা গেছে, যা তার সমর্থক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।

নোবেলজয়ী এই নেত্রীর বর্তমান বন্দিদশার শুরু হয়েছিল মূলত ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। ওই বছর মিয়ানমারের সামরিক জান্তা জোরপূর্বক তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে এবং এর পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে বন্দি করা হয়। সে সময় সামরিক শাসকরা তার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যাপকভাবে সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এনে বিচারের মুখোমুখি করে এবং তাকে দীর্ঘ ৩৩ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। তবে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নানা হিসাবনিকাশের কারণে তার সেই সাজার মেয়াদ কিছুটা কমানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় গৃহবন্দি জীবন যাপন করছেন এবং এত দিন বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে তার যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল।

মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ অবশ্য শুরু থেকেই বারবার দাবি করে আসছিল যে অং সান সু চি সম্পূর্ণ জীবিত ও সুস্থ আছেন; তবে দীর্ঘ সময় ধরে তারা এর পক্ষে কোনো দৃশ্যমান বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এর ফলে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বব্যাপী গভীর উদ্বেগ তৈরি হয় এবং তার ছেলে কিম আরিস সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মায়ের জীবিত ও সুস্থ থাকার প্রমাণ প্রকাশের দাবিতে একটি বড়সড় আন্তর্জাতিক প্রচারণাও শুরু করেন। অবশেষে আইএফআরসির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই সাক্ষাতের মাধ্যমে কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তিনি জান্তার বাইরের কারও সঙ্গে বৈঠক করলেন। এই বৈঠকের ছবিতে তাকে বেশ স্বচ্ছন্দ ও সুস্থ দেখালেও, তাদের মধ্যে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিংবা তার স্বাস্থ্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ অবস্থা কেমন, সে সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সু চির এই ছবি প্রকাশের পেছনে মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ গভীরভাবে জড়িত থাকতে পারে। দেশটিতে চলতি বছরের শুরুতেই একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এই নির্বাচনের পর অভ্যুত্থানকারী নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনীর আধিপত্যে থাকা সরকার নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। বর্তমানে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে ধারাবাহিক সরকারি সফরের মাধ্যমে নিজেদের দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঠিক এমন একটি সময়ে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সু চির ছবি প্রকাশের এই ঘটনাটিকে মূলত জান্তা সরকারের সেই কূটনৈতিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলারই একটি সুপরিকল্পিত অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জেএ/অভি