রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
দিনে প্রখর রোদ, তীব্র দাবদাহ। রাতে ভ্যাপসা গরম। সঙ্গে দুর্বিষহ মাত্রায় বেড়েছে লোডশেডিং। সবমিলিয়ে গ্রাম ও উপজেলা সদরের জনজীবন অতিষ্ঠ।
২৪ ঘণ্টায় ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে বিঘ্ন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। অসহনীয় লোডশেডিংয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পথে বসতে হবে তাদের।
উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ চান্দু ভূঁইয়া বলেন, আমার মতো বয়স্ক মানুষের পক্ষে তীব্র গরমে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং বন্ধে সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।
তিনি আরও বলেন, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।
আলতাফ মিয়ার বাড়িতে ছোট আকারে মুরগির খামার রয়েছে। অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি। খামারে এরই মধ্যে ডিমের উৎপাদন অনেক কমে গেছে।
চাল, হলুদ–মরিচ ভাঙানোর ব্যবসা করেন জসীম উদ্দিন। তার ব্যবসার অবস্থাও ভালো না। জসীম বলেন, সারাদিন তো কারেন্টই থাকে না। আমার ব্যবসা লাটে ওঠার দশা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সম্ভব হবে না।
তাড়াইল জোনাল অফিস কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড দাবদাহে সারাদেশে লোড বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এ কারণেই ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আমাদের উপজেলায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৫-৬ মেগাওয়াট। এই অবস্থায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে