অনলাইন ডেস্ক: ঘুম না আসা, ঘুমের ঘোরে প্রবল নাক ডাকা এবং হঠাৎ দমবন্ধ হয়ে আসার মতো জটিল সমস্যাগুলো এখন আর কেবল বয়স্কদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও তা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানিয়েছে যে, ভারতে বর্তমানে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ নানা ধরনের ঘুমজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এদের মধ্যে অনেকেই সাধারণ অনিদ্রায় আক্রান্ত হলেও, একটি বড় অংশ 'স্লিপ অ্যাপনিয়া' নামক অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি সমস্যার শিকার হচ্ছেন, যা মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি মারাত্মক শারীরিক সমস্যা যেখানে ঘুমের সময় রোগীর শ্বাসনালির পথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ঘুমের মধ্যেই রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, দম আটকে আসে কিংবা টানা কাশির মতো মারাত্মক সব উপসর্গ দেখা দেয়। এই জটিলতার প্রভাবে আক্রান্ত ব্যক্তি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথায় ভোগেন এবং সারা দিন ধরে তার মধ্যে এক ধরনের ক্লান্তিকর ঘুম ঘুম ভাব বিরাজ করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে স্লিপ অ্যাপনিয়ার এই সমস্যা অবহেলা করলে বা সঠিক চিকিৎসা না করালে ভবিষ্যতে তা হৃদরোগ কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে এই জটিল সমস্যার চিকিৎসায় চিকিৎসকরা মূলত 'সিপ্যাপ' (CPAP) মেশিনের ওপর নির্ভর করে আসছিলেন। তবে ঘুমের সময় সারা রাত মুখে মাস্ক লাগিয়ে ঘুমানো অনেক রোগীর কাছেই অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও বিরক্তিকর হওয়ায় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এর একটি সহজ ও বিকল্প সমাধানের নিবিড় সন্ধান করছিলেন। সেই দীর্ঘ গবেষণার ফলস্বরূপ গবেষকেরা 'এডি১০৯' (AD109) নামক সম্পূর্ণ নতুন একটি ওষুধ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের দাবি, উদ্ভাবিত এই ছোট্ট ট্যাবলেটটি স্লিপ অ্যাপনিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে এবং এটি রোগীদের জন্য সিপ্যাপ মেশিনের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক একটি চিকিৎসা পদ্ধতি হতে যাচ্ছে।
নতুন আবিষ্কৃত এই ওষুধটির কার্যকারিতা প্রমাণে ইতিমধ্যে তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ৬০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে যে, এই ওষুধের প্রভাবে রোগীদের কেবল ঘুমের সমস্যাই দূর হয়নি, বরং নাক ডাকা ও ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে যাওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাগুলোও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সাধারণত স্লিপ অ্যাপনিয়া তিন ধরনের হয়ে থাকে—গলার পেশি শিথিল হয়ে বায়ুপথ বন্ধ হওয়া (অবস্ট্রাকটিভ), মস্তিষ্ক থেকে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণকারী পেশিতে ঠিকভাবে সংকেত না পৌঁছানো (সেন্ট্রাল) এবং এই দুইয়ের সম্মিলিত রূপ (কমপ্লেক্স)। আশার কথা হলো, গবেষকদের মতে নতুন এই ওষুধটি এই তিন ধরনের স্লিপ অ্যাপনিয়ার ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হতে পারে।
জেএ/অভি