Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 08:34 am

লিবিয়ায় ব্যাপক অসহযোগ আন্দোলন শুরু

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচার, বিদ্যমান সব রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তকরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রার অস্থিরতার প্রতিবাদে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে ব্যাপক অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে মূলত দেশটির তরুণদের বিভিন্ন সংগঠন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে। দুর্বিষহ জীবনযাত্রায় অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। প্রথম দিনেই রাজধানীর সুক আল-জুমা এলাকার লিবিয়ান টেলিকমিউনিকেশনস অ্যান্ড টেকনোলজি কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা ভবনটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেন এবং প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবাহর সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শন করেন।

আন্দোলনকারীরা তাদের এই কর্মসূচিকে আরও বেগবান করতে নানা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। বিক্ষোভকারীদের একটি দল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয়ের প্রবেশমুখে মাটির বাঁধ দিয়ে চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় সুক আল-জুমা আন্দোলন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, তারা রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তুলবে। এক বিবৃতিতে তারা সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাধারণ জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং পুরো সরকারকে কার্যত অচল করে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সব ব্যক্তির জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্তমান সরকার, প্রতিনিধি পরিষদ, স্টেট কাউন্সিল এবং প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলসহ সব রাজনৈতিক কাঠামো অবিলম্বে বিলুপ্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ত্রিপোলির অন্যান্য এলাকা যেমন তাজুরা ও জানজুরও ইতোমধ্যেই এই অসহযোগ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া রোববার গভীর রাতে পশ্চিম ত্রিপোলি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জ্বলন্ত টায়ার ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এই উত্তাল পরিস্থিতির বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনী জনগণকে সর্বোচ্চ সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা যেকোনো ধরনের গুজব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দেওয়া উসকানিমূলক আহ্বানে সাড়া না দিতে এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন না করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।

রাজনৈতিক এই অস্থিরতার পাশাপাশি লিবিয়া বর্তমানে এক ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ জনগণের ক্ষোভকে আরও বহুগুণ উসকে দিয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে অনেক এলাকায় দিনে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না; গত দুই বছর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও চলতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পুনরায় চরম লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রার চরম অস্থিরতা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভক্তি নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর সঙ্গে নতুন করে দেশটির ক্ষমতা হাফতার ও দবেইবাহ পরিবারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সম্ভাব্য একটি মার্কিন উদ্যোগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় লিবিয়ার সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জেএ/অভি