নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং অর্থনীতি পুনর্গঠনে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাসহ বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়ম অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকর করতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব ও শিল্পায়নমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সাংবিধানিক সংস্কারে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে বৈশ্বিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের ঐক্য, সাহস ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ