বিনোদন ডেস্ক: চীনা একটি প্রবাদ আছে—“হা-হা করে হাসলে দাঁত দেখা যায়, আর হি-হি করে হাসলে বুদ্ধি কমে যায়।” এই প্রবাদে হাসি নিয়ে উভয় সংকটের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ‘বলিউড বাদশাহ’ শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানের সংকট কোথায় তা নিয়ে রয়েছে নানা মত। কারণ, শাহরুখ পুত্রকে ক্যামেরার সামনে হাসতে দেখা যায়নি বললেই চলে। অথচ, রূপালি পর্দার বাইরে ‘বলিউড কিং’ যখন জনসমক্ষে আসেন তখন তাকে সবসময় হাস্যেজ্জল দেখা যায়। কিন্তু তার ছেলের ক্ষেত্রে সেটি উল্টো। আরিয়ান খানকে জনসমক্ষে হাসতেই দেখা যায় না। ক্যামেরার সামনে তার গম্ভীর মুখভঙ্গি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। এবার সেই রহস্যের ব্যাখ্যা দিলেন বন্ধু অভিনেতা রাঘব জুয়াল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাঘব বলেন, ‘আরিয়ান ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যামেরার সামনে হাসেন না। কারণ, তিনি কোনো কৃত্রিম অভিব্যক্তি দেখাতে চান না। সে ভান করতে চায় না। আমার মনে হয়, অভিনয় করে কিছু দেখানোরও প্রয়োজন সে অনুভব করে না। সে যেমন, ঠিক তেমনভাবেই থাকতে চায়। আর সেটার স্বাধীনতা তার থাকা উচিত। সে খুবই সৃজনশীল, প্রাণবন্ত ও দয়ালু একজন মানুষ। এটাই তার স্বভাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি সে হাসতে না চায়, সেটি পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে বাড়িতে সে অনেক হাসে, মজা করে, আড্ডা দেয়।’
সম্প্রতি রাঘব জুয়ালের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে খুব কম সময়ের জন্য প্রকাশ্যে দেখা যায় আরিয়ান খানকে। সেখানে ভক্ত ও আলোকচিত্রীদের ভিড়ে প্রায় আটকে পড়েন তিনি। সেই উপস্থিতির পর থেকেই আবারও তার ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এর আগে, এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও আরিয়ানের প্রশংসা করেছিলেন রাঘব। তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি শাহরুখ খান ও গৌরী খানের ছেলে—এটা সত্যি। কিন্তু তার নিজেরও আলাদা পরিচয় আছে। তিনি নিজস্ব ব্যক্তিত্বের মানুষ। আমার কাছে তিনি একজন প্রতিভাবান নির্মাতা। না হলে এমন একটি সিরিজ তৈরি করা সম্ভব হতো না, যেখানে বলিউডকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এমন সাহসী কাজ সবাই করতে পারে না।’
এদিকে, আরিয়ান খানের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’ সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে। রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে গৌরী খান প্রযোজিত এই ব্যঙ্গাত্মক কমেডি-ড্রামায় অভিনয় করেছেন লক্ষ্য, ববি দেওল, রাঘব জুয়াল, সাহের বাম্বা, আনিয়া সিং, মোনা সিং, মনোজ পাহওয়া ও মনীশ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
সাত পর্বের এই সিরিজে বলিউডে নিজের জায়গা করে নেওয়ার সংগ্রামে নামা এক তরুণের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পের সংস্কৃতি, তারকাদের জনমুখী ভাবমূর্তি এবং ইন্ডাস্ট্রির নানা বাস্তবতাকেও ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এনএ