Print Date & Time : 03 November 2026 Tuesday 02:40 pm

১৫ বছরের কম বয়সীদের ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ নিষিদ্ধ করলো ফ্রান্স

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক মাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় ঐতিহাসিক এক পদক্ষেপ নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সব ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফরাসি পার্লামেন্ট।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পার্লামেন্টের দুটি কক্ষেই বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এর পাশাপাশি স্কুলেও শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এই আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে ফ্রান্সই প্রথম দেশ হিসেবে কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে এই ধরনের কঠোর ও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করলো।

নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে এই বিলটির পক্ষে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

পার্লামেন্টে বিলটি পাসের পর একে একটি বড় অগ্রগতির পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে ইউরোপে নতুন পথ দেখাচ্ছে ফ্রান্স।

আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই আইনটি কার্যকর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে ফরাসি সাংবিধানিক পরিষদে এটি সংবিধানসম্মত কি না তা যাচাই করার পরেই আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োগ করা হবে।

ফ্রান্সের ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান লি হেনাফ জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞাটি মূলত দুটি ধাপে কার্যকর হবে।

প্রথম ধাপ: আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ নতুন কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

দ্বিতীয় ধাপ: ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের আগে থেকে থাকা সব ধরনের বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তবে অনলাইন বিশ্বকোষ, শিক্ষামূলক এবং বৈজ্ঞানিক ডিরেক্টরিগুলোর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।

গত বছর ফ্রান্সের পাবলিক হেলথ ওয়াচডগ এক প্রতিবেদনে জানায়, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো বিশেষ করে কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি করছে। এমনকি টিকটকের ক্ষতিকর কনটেন্টের কারণে একাধিক কিশোর-কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে। একজন অভিভাবক বিষয়টিকে অ্যালকোহল থেকে সন্তানদের দূরে রাখার সুরক্ষার সাথে তুলনা করে পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে বামপন্থী দল 'ফ্রান্স আনবাউড'-এর আইনপ্রণেতারা এই বিলের বিরোধিতা করে দাবি করেছেন, আইনটির সাংবিধানিক স্পষ্টতা নেই, এটি অনলাইন পরিচয় গোপনীয়তা নষ্ট করবে এবং মাঠপর্যায়ে এটি প্রয়োগ করা অসম্ভব হবে। 

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ