আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে শিশুদের মধ্যে নতুন করে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। করাচির একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অন্তত ১৩০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে, যাদের বড় অংশই শিশু।
সিন্ধু প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সৈয়দ ঘানি জানিয়েছেন, করাচির কুলসুম বাই ভালিকা হাসপাতালে সংক্রমণের ঘটনায় ১০ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২০ জনের শরীরে এইচআইভি পাওয়া গেছে। একই ধরনের পরীক্ষায় লান্ধি এলাকার আরেকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আরও ১০ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।
হাসপাতালটিতে শিশুদের মধ্যে অস্বাভাবিক সংখ্যায় সংক্রমণ ধরা পড়ার বিষয়টি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রথম সামনে আসে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, এর আগেই অক্টোবর মাসে প্রথম ছয়টি সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়।
সরকারি তদন্তে হাসপাতালের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটির বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে মানা হয়নি, সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবহার ছিল অপর্যাপ্ত এবং একবার ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত সিরিঞ্জ ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়ম ছিল।
দ্বিতীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ৭৮টি সংক্রমণ ও ছয়টি মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রশাসনিক ব্যর্থতার কথা বলা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩৭ জন চিকিৎসক ও কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করাচির এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। পাকিস্তানে এর আগেও সিন্ধু প্রদেশে বড় ধরনের এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে সিন্ধুর রতোরো এলাকায় শত শত শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে এইচআইভি সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। ২০১০ সালে যেখানে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ হাজার, ২০২৪ সালে তা বেড়ে প্রায় ৪৮ হাজারে পৌঁছেছে। দেশটিতে আনুমানিক ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নিজেদের সংক্রমণের বিষয়ে জানেন না।
সূত্র: আল জাজিরা
জা.অর্থনীতি/এসআই