Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 08:12 am

তিস্তার পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ

image

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে লালমনিরহাটের ৫ টি উপজেলার তিস্তা নদীর  পানি কমতে শুরু করলেও কাটেনি মানুষের দুর্ভোগ। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন করে  নদীভাঙনের আশঙ্কা। তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর  পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২.০৫ মিটার, যা বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। অথচ সোমবার রাত ১০টায় একই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রাতভর ধীরে ধীরে পানি কমলেও বন্যার ক্ষত তেমন কোনো দেখা যায়নি

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদীর পানি নেমেছে। তবে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়। উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোমবারের আকস্মিক পানিবৃদ্ধিতে ৫ টি উপজেলা। 

জানা গেছে, ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় পাটগ্রাম উপজেলা ও কালীগঞ্জে উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায়  বন্যা আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরে বাদামক্ষেত, ধানের বীজ তলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

তিস্তা নদী তীরবর্তী মানুষের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে অন্তত ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অনেক বাড়িঘরে এখনো পানি রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নার সমস্যা এবং গবাদিপশু রক্ষায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন দুর্গতরা। এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার তীব্র স্রোতে বিভিন্ন এলাকায় নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি দ্রুত নেমে গেলে ভাঙনের তীব্রতায় বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

অনেক পরিবার এখনো পানিবন্দি, শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। আবারো যদি পরিস্থিতি খারাপ হলে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় তিস্তার পানি কমছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পানি বাড়তে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আদীতমারী  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস  বলেন, তিস্তা তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পানি বৃদ্ধি বা নদীভাঙনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি