মশা কি সবাইকে কামড়ায়? অনেকেই উত্তর দেবেন, না। কারণ, একসঙ্গে অনেক মানুষ অবস্থান করলেও নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে বেশি কামড়ে থাকে মশা। মশা মূলত আমাদের শরীরে বসার অনেক আগে থেকেই দূর থেকে শরীরের নানা সংকেত পড়তে পারে। মানুষের শরীর থেকে প্রতিনিয়ত নিঃশ্বাস ও ত্বকের গন্ধের মতো অসংখ্য উপাদান বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
কার শরীর মশার কাছে কতটা আকর্ষণীয় হবে, তা মূলত নির্ধারণ করে এই উপাদানগুলোই। রক্তচোষা এই পতঙ্গটি মূলত ৩টি উপায়ে মানুষের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের হিট লিস্টের শীর্ষে রাখে।
কৌতূহলবশত মসজিদ পরিদর্শনে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন তরুণ ফুটবলারকৌতূহলবশত মসজিদ পরিদর্শনে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন তরুণ ফুটবলার
কার্বন ডাইঅক্সাইড
মানুষের জানা প্রয়োজন, সব মশা কিন্তু কামড়ায় না। কেবল স্ত্রী মশারাই ডিমের বিকাশের জন্য প্রোটিনের খোঁজে মানুষের রক্ত চোষে। প্রায় ১০ মিটার দূর থেকেই মশারা তাদের শিকারকে চেনার জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহারের পাশাপাশি চোখ ও ঘ্রাণশক্তি কাজে লাগায়।
মানুষ যখন নিঃশ্বাস ছাড়ে, তখন কার্বন ডাইঅক্সাইডের যে ধারা তৈরি হয়, তা মশার শিকার খোঁজার আচরণকে উসকে দেয়। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যেহেতু শিশুদের তুলনায় বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে, তাই মশার কাছে তারা বেশি আকর্ষণীয়।
শরীরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা
মশারা কেবল কার্বন ডাইঅক্সাইডই খোঁজে না, তারা শরীরের উত্তাপ এবং আর্দ্রতার প্রতিও ভীষণভাবে আকৃষ্ট হয়। এ কারণে একজন গর্ভবতী নারী সাধারণ নারীর তুলনায় মশার কাছে দ্বিগুণ আকর্ষণীয় হতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় শরীরের বিপাকীয় চাহিদা ও নিঃশ্বাসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শরীর বেশি উত্তপ্ত থাকে। একইভাবে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীর ঘেমে যাওয়ায় এবং বড় গড়নের মানুষের শরীর থেকে বেশি তাপ বের হওয়ায় তাঁরা মশার সহজ লক্ষ্যে পরিণত হন।
ত্বকের নিজস্ব গন্ধ ও বংশগত কারণ
মশা যখন উড়তে উড়তে শরীরের ১০ মিটারের কাছাকাছি চলে আসে, তখন তারা চূড়ান্তভাবে শিকার বেছে নেয় ত্বকের গন্ধ দিয়ে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মশারা মূলত এক রাসায়নিকের পৃথিবীতে বাস করে। আমাদের ত্বকে থাকা অণুজীবগুলো চামড়ার ওপর থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ও অন্যান্য উপাদান ভেঙে এক ধরনের উদ্বায়ী জৈব যৌগ তৈরি করে। মানুষের ত্বকে এমন প্রায় ৫০০টিরও বেশি উপাদান থাকে।
গবেষকরা বলছেন, কিছু মানুষের ত্বকে কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের মাত্রা অনেক বেশি থাকে, যা মশার জন্য প্রতিরোধ করা অসম্ভব। এই আকর্ষণের মাত্রা একজনের চেয়ে অন্যজনের ক্ষেত্রে ১০০ গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। যমজ সন্তানদের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, মশাকে আকর্ষণ করার এই শারীরিক গন্ধটি মানুষ মূলত বংশগত বা জিনগতভাবেই পেয়ে থাকে।
সূত্র : বিবিসি
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ