অনলাইন ডেস্ক: দেশে হামের প্রকোপ এখনো পুরোপুরি না কমতেই ডেঙ্গু সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্ষাকালে বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টে ডেঙ্গু আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। একই সময়ে দুই রোগের বিস্তার দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম ছিল। তবে জুনে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। জুনে ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং জুলাইয়ের প্রথম ১০ দিনেই আরও ছয়জনের প্রাণ গেছে। এ পর্যন্ত মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে জুনে প্রায় তিন হাজার এবং জুলাইয়ের প্রথম ১০ দিনেই এক হাজার ৭১১ জন ভর্তি হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে হাসপাতালে হামের রোগীর চাপ থাকায় ডেঙ্গু রোগী বাড়লে চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হতে পারে। হামে আক্রান্ত হওয়ার পর কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এতে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা পাবেন।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিকে ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় আগের বছরের তুলনায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতিও বেশি পাওয়া গেছে।
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, চলমান বর্ষায় মশার প্রজনন আরও বাড়বে। ফলে আগামী দুই মাসে ডেঙ্গু সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতিবছর বাজেট বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত লার্ভা জরিপ, কার্যকর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, দীর্ঘদিন একই ওষুধ ব্যবহারে কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় নতুন লার্ভানাশক ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজও চলছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক প্রচার এবং মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সরকারের আশা, আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে এ বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
জা.অর্থনীতি/এসআই