Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 07:20 am

সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদীর পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

image

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢলের পানিতে ইতিমধ্যেই তলিয়ে গেছে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার সংযোগ সড়কসহ জেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল ও সাবমার্সিবল সড়ক। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সুরমা, খাসিয়ামারা, মরা সুরমা, রক্তি এবং সীমান্তঘেঁষা জাদুকাটা নদীসহ জেলার সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হাওরে প্রবেশ করছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকার ‘১০০ মিটার’ নামক সড়কটি প্লাবিত হয়েছে। ফলে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হলেও অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় লোকজন। এছাড়া তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভন জানান, আগামী দুদিন দেশের সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগ এবং উজানে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল আগামী তিন দিন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি ও অবনতি হতে পারে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-২) মো. এমদাদুল হক বলেন, "সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় হাওর ও নদীতে পানি বাড়ছে এবং উজানের ঢলে নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টি আরও দুদিন স্থায়ী হতে পারে। তবে এখনই ভয়ের কোনো কারণ নেই, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।"

দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনের সার্বিক নজরদারির পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি