সিলেট প্রতিনিধি: ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সিলেটের সব কটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদীর পানি পাঁচটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমাসহ বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে আরও কয়েকটি নদীর পানি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে মনু নদীর পানি মৌলভীবাজারের মনু রেল-ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে এবং মৌলভীবাজার পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়া খোয়াই নদীর পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি ৬টি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই, রাজনগরে মনু এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে জনবসতিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ৩৫টি গ্রামের মানুষ এবং ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট। কমলগঞ্জে কালভার্ট ধসে পড়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
সম্ভাব্য এই দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি