নিজস্ব প্রতিবেদক: উজানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টানা বর্ষণের প্রভাবে দেশের ছয়টি নদীর ১০টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তিস্তা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর ৭টি স্টেশন সতর্কসীমায় পৌঁছেছে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জসহ কয়েকটি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানায়, সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৪২ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর লামা পয়েন্টে ১৫৪ সেন্টিমিটার ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মনু রেলসেতু ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার, ধলাই নদীর কমলগঞ্জ পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে ২২০ সেন্টিমিটার ও হবিগঞ্জ পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৯৩টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৩১টিতে কমেছে এবং ৩টি স্টেশনে পানি সমতল অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে সর্বোচ্চ ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে, যা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে।
এছাড়া তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা ও লরেরগড় স্টেশন বর্তমানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজান ও দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে