Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 08:29 pm

দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি নেই, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

image

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়িতে দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দীঘিনালা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। উপজেলার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে থাকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে সাজেক, বাঘাইছড়ি এবং লংগদুগামী সড়কে সব ধরনের যান চলাচল। দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, কবাখালী ও মেরুং ইউনিয়নের শত শত ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। দুর্গতরা ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিলেও সেখানে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বেতছড়ি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কমলা বেগম ও জোবাইদা বেগম জানান, হঠাৎ পানি বাড়ায় ঘরের আসবাবপত্রসহ সবকিছু পানিতে তলিয়ে গেছে, এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।

মেরুং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুস সালাম জানান, ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি। এলাকার প্রায় সব নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত খাদ্য নেই। এদিকে রাতের বৃষ্টি কমায় চেঙ্গী নদীর পানি সামান্য কমলেও মাইনী নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জেলা সদরের বেতছড়ি মার্মাপাড়া, বিচিতলা, লার্মাপাড়া ও বটতলার নিচু এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে।

ইউএনও তানজিল পারভেজ বলেন, "লংগদু-মেরুং সড়কের স্টিল ব্রিজ, ছোট মেরুং বাজার ও বেলছড়ি এলাকার সড়ক পানির নিচে থাকায় লংগদু এবং সাজেক সড়কে দ্বিতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। দুর্গতদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ ও মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি