মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সুমন (২৮) নামের এক রাজমিস্ত্রী যুবককে গলায় কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সুমনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশরাফপুর গ্রামের হঠাৎ পাড়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— ভুক্তভোগী সুমন, সে আশরাফপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন সুমনের আপন চাচা নজরুল ইসলাম খোকা ও তার দুই ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাঠের একটি জমি নিয়ে সুমনের পরিবারের সঙ্গে তার চাচা নজরুল ইসলাম খোকার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে খোকা প্রায়ই সুমনকে হত্যার হুমকি দিত। মঙ্গলবার রাতে সুমন বাড়ির সামনের একটি চায়ের দোকানে বসে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখছিল। খেলা দেখার একপর্যায়ে চাচা নজরুল ইসলাম ও তার দুই ছেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পেছন থেকে সুমনের গলায় কোপ মেরে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফারুক হোসেন জানান— সুমনের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আটকে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিশেষ অভিযান শুরু করেছে; এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি