Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 03:28 am

আমি দেশের সিইও, ব্যাংকে আমার কোটি কোটি টাকা

image

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার চৌরঙ্গীবাজারে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) একটি শাখায় খালি গায়ে ঢুকে ব্যবস্থাপকের চেয়ারে বসে নিজেকে ‘দেশের সিইও’ দাবি করে অসংলগ্ন আচরণ করেছেন এক যুবক। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ এসে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় পুরো ব্যাংকে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাংকে আকস্মিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ওই যুবকের নাম— ইয়াসিন আলী। সে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্যাংকের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়— প্রতিদিনের মতো ব্যাংকিং কার্যক্রম চলাকালে ইয়াসিন আলী হঠাৎ ভেতরে প্রবেশ করে সরাসরি ব্যবস্থাপকের কক্ষে ঢুকে তার চেয়ারে বসে পড়েন। এ সময় তিনি নিজেকে দেশের ‘সিইও’ দাবি করে উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, “ব্যাংকে আমার কোটি কোটি টাকা রয়েছে। সেই টাকা দিয়ে বাড়ি মেরামত করব এবং নতুন মোটরসাইকেল কিনব।” ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সে আরও বেশি আক্রমণাত্মক ও চিৎকার করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে হরিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় তাকে হেফাজতে নেয়।

ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার বিপ্লবী রানী রায় আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেন— “ইয়াসিনকে এলাকার সবাই চেনে এবং ভয় পায়। এর আগেও সে একজনের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রায়ই মানুষকে আক্রমণ করার কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। দীর্ঘদিন ধরে সে ব্যাংক খোলার সাথে সাথে ভেতরে ঢুকে কর্মীদের কাজে বিঘ্ন ঘটাত। ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েও লাভ না হওয়ায় আজ বাধ্য হয়ে আমরা পুলিশের শরণাপন্ন হই।” এর আগে তাকে সরাতে গিয়ে গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর এক সদস্য আহত হয়েছিলেন বলেও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

হরিপুর থানার ওসি (তদন্ত) শরিফ উদ্দিন বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়। তার নির্দেশনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় ইয়াসিনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” তবে ওই যুবক মূলত চরম মাদকাসক্ত নাকি মানসিক ভারসাম্যহীন— বিষয়টি নিশ্চিত হতে পুলিশ অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করে দেখছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি