Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 11:38 pm

খামেনির জানাজায় দেখা মিলল ‘নিহত’ আহমাদিনেজাদের!

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দেখা গেছে। আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ সরকারি টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘দৌলত-ই বাহার’ অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতির ছবি প্রকাশ করেছে।

একসময় ইরানের ক্ষমতাকেন্দ্রের পূর্ণ সমর্থন পাওয়া আহমাদিনেজাদ পরবর্তীকালে খামেনির সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তার প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে খামেনি প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন দেন। বিশেষ করে ২০০৯ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর খামেনির প্রকাশ্য সমর্থন দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

তবে ২০১০ সাল থেকে দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি প্রকাশ্যে আসে। তৎকালীন গোয়েন্দামন্ত্রী হেইদার মোসলেহিকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরমে পৌঁছে। আহমাদিনেজাদ তাকে পদত্যাগে বাধ্য করলেও খামেনি নির্দেশ দিয়ে মোসলেহিকে পুনর্বহাল করেন। এর প্রতিবাদে আহমাদিনেজাদ টানা ১১ দিন সরকারি দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেন, যা ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে আহমাদিনেজাদ ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে খামেনির প্রভাবাধীন গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাকে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ২০১৭, ২০২১ ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দেয়নি।

চলতি বছরে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রথম দিনই হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই নিহত হন। সে সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গণমাধ্যমে ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা আহমাদিনেজাদও 'নিহত' হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করে।

ধারণা করা হয়েছিল, তার বাড়ির কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় তিনি মারা গেছেন। এরপর কয়েক মাস তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার ভাগ্য নিয়ে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্যও দেওয়া হয়নি। ফলে যুদ্ধের শুরুর দিককার বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা থেকে যায়।

তবে অবশেষে তাকে দেখা গেলো খামেনির শোকানুষ্ঠানে। এদিকে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় আহমাদিনেজাদের উপস্থিতি ইরানের ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশটির রাজনীতিতে উপেক্ষিত নেতাদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: ইরান ওয়্যার

জা.অর্থনীতি/এসআই