Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 04:57 am

তেহরানে আজ খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা, লাখো মানুষের ঢল

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি সর্বসাধারণের শেষশ্রদ্ধা জানাতে আজ সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানী তেহরানে ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশটির ঐতিহাসিক আজাদি স্কয়ারে তার মরদেহবাহী কফিন নেওয়া হবে, যেখানে লাখো মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ অংশ নেন। জানাজার পর তার কফিন আজাদি স্কয়ারে নেওয়া হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

এদিকে দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, আজ ইমাম হোসেন স্কয়ার থেকে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত কয়েক মাইল দীর্ঘ শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম প্রতীক হিসেবে পরিচিত আজাদি স্কয়ারে এই শেষশ্রদ্ধা অনুষ্ঠানকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই স্থানে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিপ্লবের ধারাবাহিকতার প্রতীকী বার্তাও তুলে ধরা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, আজকের শোকানুষ্ঠান শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে শিয়াদের পবিত্র শহর কোমে। এরপর বুধবার প্রতিবেশী ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রা ও জানাজার আয়োজন করা হবে। সবশেষে মরদেহ ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে নেওয়া হবে, যেখানে আগামী বৃহস্পতিবার তাকে দাফন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ খামেনিকে ঘিরে চলমান রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান কেবল একজন নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন নয়, বরং তার মৃত্যুর পরও ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা অটুট রয়েছে-এমন বার্তা দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরারও একটি প্রচেষ্টা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চার মাসেরও বেশি সময় পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের দাফনের আয়োজন করা হচ্ছে। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শোকানুষ্ঠান শুরু হয়। জানাজা ও শেষশ্রদ্ধা উপলক্ষে রোববার ও সোমবার ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

জা.অর্থনীতি/এসআই