Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 04:45 am

ইউরোপে এস আলম গ্রুপের সম্পদ জব্দ: পাচারের অর্থ দেশে ফিরবে কবে?

image

অনলাইন ডেস্ক: ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে বাংলাদেশের আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ–এর মালিক সাইফুল আলম চৌধুরীর একটি বিলাসবহুল বাড়ি জব্দের আদেশ দিয়েছে দেশটির আদালত। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নিকোশিয়ার জেলা আদালত এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

মি. আলমের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও তা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। একই তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ও আইল অব ম্যানসহ কয়েকটি দেশে তার এবং সংশ্লিষ্টদের কিছু সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে দেশে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অর্থ ফেরাতে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থপাচার অনুসন্ধানে কাজ করছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

তদন্তে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকংসহ প্রায় দেড় ডজন দেশের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব দেশে বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্টদের সম্পদ জব্দ ও আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠিয়েছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান ও সাইপ্রাসে কিছু সম্পদ জব্দ হলেও তা এখনই দেশে ফেরানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতে অর্থ পাচারের প্রমাণ উপস্থাপন করে বৈধতা প্রমাণ করতে হবে-যা দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক আদালতে অর্থপাচার প্রমাণ করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে মামলা নিষ্পত্তি হতে ৭ থেকে ২০ বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি বিপুল ব্যয় ও দক্ষ আইনি সহায়তার প্রয়োজন হবে।

সরকারি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। এসব চুক্তি “নো উইন, নো ফি” ভিত্তিতে হওয়ায় অর্থ উদ্ধার না হলে কোনো খরচ হবে না।

অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আইনগত সহায়তা চুক্তির অভাবকেও বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণে কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যেখানেই পাচারকৃত অর্থ শনাক্ত করা সম্ভব হবে, সেখান থেকেই তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ এবং ফলাফল অনিশ্চিত।

অন্যদিকে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালানোর কথা বলেছেন। ফলে এই অর্থ দেশে ফেরানো কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

জা.অর্থনীতি/এসআই