আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মহলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার (৩ জুলাই) গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে খাবার পানি সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে ফেলা বোমার আঘাতে এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত এবং অপর এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গাজা সিটির পূর্ব দিকে অবস্থিত ঐতিহাসিক আল-ওমারি মসজিদের পেছনে শিশুরা যখন খাবার পানি সংগ্রহ করছিল, ঠিক তখনই তাদের লক্ষ্য করে বোমা ফেলে একটি ইসরায়েলি ড্রোন।
দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার অধিকাংশ বাড়িঘর ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার এখন তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত পানি সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা না থাকায়, তীব্র গরম ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে শিশুরা দূর-দূরান্তের গণ-ট্যাংক থেকে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে। আর এই মৌলিক চাহিদা মেটাতে গিয়েই প্রতিনিয়ত ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে তারা।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চুক্তির পর থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী অনবরত তা লঙ্ঘন করে আসছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ১,০৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩,৪২৯ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৩ হাজারে। একই সাথে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ। দীর্ঘদিনের এই বর্বরতায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো এবং ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এমন কাপুরুষোচিত ড্রোন হামলা ও শিশু হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে অবরুদ্ধ গাজার সাধারণ মানুষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত এই আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।
সূত্র: আনাদোলু
জা.অর্থনীতি/এসআই