আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের গ্বাদার জেলায় পাকিস্তানি কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্পে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এই হামলায় পাকিস্তানের ৩০ জনেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী নিহত এবং আরও বহু সেনা আহত হয়েছেন। তবে বিএলএ-এর এই দাবি এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো সূত্র বা পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
বিএলএ-এর পক্ষ থেকে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩২ মিনিটে গ্বাদার জেলার জিওয়ানি এলাকার পানওয়ানে অবস্থিত কোস্ট গার্ড ক্যাম্পে এই হামলা চালানো হয়। গোষ্ঠীটির সুপরিচিত ও এলিট সুইসাইড স্কোয়াড মাজিদ ব্রিগেড-এর এক সদস্য বিস্ফোরক বোঝাই একটি মাজদা গাড়ি নিয়ে কোস্ট গার্ড ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির দাবি, শক্তিশালী এই বিস্ফোরণের ফলে কোস্ট গার্ডের পুরো স্থাপনাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই তাদের ফাতেহ স্কোয়াড-এর যোদ্ধারা ধবংসপ্রাপ্ত ক্যাম্পে ঢুকে বেঁচে যাওয়া নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর অতর্কিত ও সমন্বিত বন্দুক হামলা শুরু করে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে চাপা পড়ে থাকায় এবং আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তাদের দাবি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বালুচিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং স্থানীয় বালুচ নাগরিকদের গুম করার অভিযোগ তুলে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও বেসামরিক সংগঠন। এই হামলার পর পুরো গ্বাদার জেলা ও এর আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
সূত্র: এনডিটিভি
জা.অর্থনীতি/এসআই