আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের ইতিহাসে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই দফায় দফায় হামলায় অন্তত ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯১ জন।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো এই হামলাকে রাজধানীর ওপর চালানো রাশিয়ার সবচেয়ে ব্যাপক ও গণ-আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছেন। হামলার শিকার হওয়া স্থানগুলোর মধ্যে একটি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, গত রাতে রাশিয়া মোট ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন দিয়ে রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও, ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন প্রতিরক্ষা ভেদ করে কিয়েভের ৩৩টি স্থানে আঘাত হানে।
হামলায় কিয়েভের দানিটস্কি জেলার একটি ৯ তলা আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনটির একাংশ ভেঙে কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বেসমেন্টে আশ্রয় নেওয়া বেশ কিছু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধারে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।
একই এলাকার একটি কিন্ডারগার্টেনের পাশে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে এবং আশেপাশের ভবনগুলো আগুনে পুড়ে গেছে। হামলার ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে কিয়েভের পাতাল রেল স্টেশনগুলোতে (মেট্রো) অন্তত ৪,৫০০ শিশুসহ রেকর্ড ৫২,৫০০ মানুষ রাতভর আশ্রয় নেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিই পাতাল রেলে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এছাড়া, এই হামলায় আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ইউক্রেনীয় রেড ক্রস-এর প্রধান গুদামটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ পাউন্ড মূল্যের ৩ লাখ ২০ হাজার জরুরি ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে, যা দেশজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে মারাত্মক সংকটে ফেলবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
জা.অর্থনীতি/এসআই