সিলেট প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের বিশ্ব ঐতিহ্য টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান।
সোমবার (২৯ জুন) সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ‘টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর উদ্যোগে এই কর্মশালা আয়োজিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, "হাওর কেবল একটি জলাশয় নয়; এটি নানা প্রজাতির মাছ, উদ্ভিদ ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। প্রায় ৬০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা এই হাওরের ওপর নির্ভরশীল। তাই হাওরের সুস্থ পরিবেশ বজায় থাকলেই জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবিকা টেকসইভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব।"
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক লাভ বা রাজস্ব বৃদ্ধির চেয়ে পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পর্যটনের বিকাশ প্রয়োজন হলেও তা অবশ্যই পরিবেশবান্ধব হতে হবে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে নৌযান ও পর্যটন কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে হাওরের প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর দিকনির্দেশনা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তৃতায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, হাওরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে বন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে কাজ করা হবে। বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ আবাস নিশ্চিতকরণ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, টেকসই কৃষি এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগকে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। স্থানীয় জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতেই প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা গবেষণাগার কার্যালয়ের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান এবং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সাহেদা বেগম।
কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, টাঙ্গুয়ার হাওর-সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি