Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 03:28 pm

একই পরিবারের ৬ প্রতিবন্ধী সদস্যের জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের নতুন ঘর

image

নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পূর্বেরচর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ টিনের ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা হারেছা বেগমের পরিবার। একই পরিবারের ৬ জন সদস্যই বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে এবার পরিবারটির জন্য নতুন একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরটি ওই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে হারেছা বেগমের স্বামী ফজর আলী মারা যান। এরপর থেকে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। বর্তমানে হারেছা বেগমের সঙ্গে বসবাস করছেন তার জন্মান্ধ মেয়ে সুরাইয়া বেগম, শারীরিক প্রতিবন্ধী জামাতা মরম আলী এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ৩ নাতি-নাতনি-মদিনা পাখি, আব্দুর শুক্কুর ও তাসনিম। পরিবারের ৬ সদস্যই কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার।

হারেছা বেগম বলেন, ঝড়বৃষ্টি হলে ভাঙাচোরা ঘরে থাকা খুব কষ্টকর ছিল। নতুন ঘর পাওয়ায় এখন কিছুটা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন। তিনি সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সুরাইয়া বেগম বলেন, পরিবারের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে দিন কাটছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সহযোগিতায় নতুন ঘর পাওয়ায় তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

রায়পুরা স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সালাম বলেন, পরিবারের দুরবস্থার খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন ব্যক্তি সহায়তার আগ্রহ দেখান। সবার সহযোগিতায় এক লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে বসবাসযোগ্য ঘরটি নির্মাণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান সরকার বলেন, পরিবারটির জন্য গাভী প্রদানসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা। সভাপতিত্ব করেন রায়পুরা স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শরীয়তপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি জেড এইচ সিকদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক আসাদুল হক, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দুলাল সিংসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিবারটির প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে