Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 04:49 pm

আজ পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিজ দল লেবার পার্টির এমপিদের তীব্র চাপের মুখে আজ সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। মূলত দলের ভেতরেই তাকে সরিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে নতুন নেতা নির্বাচিত করার জোর দাবি উঠেছে।

রোববার (২১ জুন) সরকারের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত এবং দেশের জন্য যেটা ভালো, সেটাই তিনি করবেন। তবে স্টারমারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কাইল।

বাণিজ্যমন্ত্রী কাইল জানান, স্টারমারকে সরানোর জন্য একটি পক্ষ বেশ কয়েক মাস ধরেই চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। গত শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই সংকট আরও তীব্র হয়, যখন তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্টের একটি উপনির্বাচনে জয়ী হন। এই জয় আনুষ্ঠানিকভাবে বার্নহ্যামকে স্টারমারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ তৈরি করে দেয়। কাইলের তথ্যানুসারে, স্টারমার এখন রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কভাবে পরিকল্পনা করছেন।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার লেবার পার্টির এমপিরা স্টারমারকে চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যেই পদত্যাগের নির্দিষ্ট সময় জানাতে আলটিমেটাম দেন। অন্যথায় তাকে জোরপূর্বক পদচ্যুত করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, চাপ সৃষ্টিকারী এই এমপিদের বড় অংশই আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুগত ছিলেন। লেবার পার্টির নিয়মানুসারে, নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে সংসদীয় দলের অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জন এমপির সমর্থনের প্রয়োজন হয়।

মাত্র দুই বছর আগে ১৭৪ আসনের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন কিয়ার স্টারমার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জরিপে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নেমেছে এবং ডানপন্থি দল ‘রিফর্ম ইউকে’ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এসেছে। অনেক লেবার এমপিরই ধারণা, দ্রুত নেতৃত্বে পরিবর্তন না আনলে আগামী নির্বাচনে রিফর্ম ইউকের নাইজেল ফ্যারাজ জয়ী হতে পারেন।

উল্লেখ্য, স্টারমারের আগে গত ১০ বছরে যুক্তরাজ্যের ছয়জন প্রধানমন্ত্রীকে নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কিয়ার স্টারমারও সেই পথেই হাঁটেন কি না।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি