Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 02:45 am

কিভাবে সাজানো হলো এবারের কাতার স্কোয়াড

image

কাতার জাতীয় ফুটবল দল

কাতারের ডাকনাম: দ্য মেরুন ওয়ান

কনফেডারেশন: এএফসি

কোচ: জুলেন লোপেতেগুই

ফিফা র‍্যাংকিং: ৫৫

কোয়ালিফিকেশন যাত্রা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য কাতার এশিয়ান বাছাইপর্ব পেরিয়ে প্রথমবারের মতো সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাছাইপর্বের চতুর্থ ও চূড়ান্ত রাউন্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা উত্তর আমেরিকার এই বৈশ্বিক আসরের টিকিট নিশ্চিত করে। ২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে খেললেও, এবারই প্রথম তারা খেলার যোগ্যতায় বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।

খেলার ধরন

কাতার জাতীয় ফুটবল দল সাধারণত পজিশন-ভিত্তিক এবং ছোট পাসে ফুটবল খেলে থাকে। তারা রক্ষণভাগে সুসংগঠিত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে এবং মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণ গড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল অবলম্বন করে।

তারকা খেলোয়াড়

কাতার জাতীয় ফুটবল দলের বর্তমান ও ইতিহাসের সেরা তারকাদের মধ্যে রয়েছেন আকরাম আফিফ, আলমোয়েজ আলী, হাসান আল-হাইদোস এবং আবদেল কারিম হাসান। তারা কাতারকে দুবার এশিয়ান কাপ (২০১৯ ও ২০২৩) জেতানোয় এবং ২০২২ বিশ্বকাপে দেশের প্রথম অংশগ্রহণে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন।

উদীয়মান খেলোয়াড়

কাতার জাতীয় ফুটবল দলের উদীয়মান খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম হলেন তাহসিন মোহাম্মদ, নাবিল ইরফান, রায়ান আল-আলি এবং আইয়ুব আল-উই। কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত পাইপলাইনের মাধ্যমে তাদের জাতীয় স্কোয়াডকে সমৃদ্ধ করছে।

কোচের কৌশল

কোচ জুলেন লোপেতেগুই আক্রমণাত্মক এবং সুসংগঠিত ট্যাকটিক্যাল কৌশলের জন্য পরিচিত। 

শক্তি ও দুর্বলতা

কাতারের জাতীয় ফুটবল দলের মূল শক্তি হলো তাদের সুদীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে খেলার ফলে তৈরি হওয়া দারুণ বোঝাপড়া, ছোট পাসের ছন্দ এবং আকরাম আফিফের মতো বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডের উপস্থিতি। তবে বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার অভাব এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতার কারণে তারা প্রায়ই চাপের মুখে ছন্দ হারিয়ে ফেলে।

বিশ্বকাপ ইতিহাস

কাতার জাতীয় ফুটবল দল আয়োজক হিসেবে ২০২২ সালে প্রথমবার ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেয়। এর পর তারা বাছাইপর্ব পেরিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে। ২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে প্রথম অংশগ্রহণ করলেও মাঠের পারফরম্যান্সে দলটি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল।

স্মরণীয় মুহূর্ত

কাতার জাতীয় ফুটবল দলের সবচেয়ে স্মরণীয় বিশ্বকাপ মুহূর্তটি হলো ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে মোহাম্মদ মুনতারির করা দেশের প্রথম ও একমাত্র গোল। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো সরাসরি বাছাইপর্ব পার হয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়াটা তাদের অন্যতম বড় অর্জন।

সংস্কৃতি ও সমর্থক

কাতার জাতীয় ফুটবল দল, ‘দ্য মেরুনস’ নামে পরিচিত, ঐতিহ্যবাহী আরব ও ইসলামিক সংস্কৃতির সঙ্গে বৈশ্বিক ফুটবলের এক অনন্য মেলবন্ধন। 

মজার তথ্য

কাতার তাদের পতাকার প্রতি সম্মান জানিয়ে মেরুন রঙটিকে জাতীয় দলের প্রধান রঙ হিসেবে বেছে নিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে দেশটির পতাকার এই গাঢ় মেরুন রঙটিকে ‘আল আদাম’ বলা হয়। তাদের পতাকার এই রঙ কাতারের ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।কাতার জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান জার্সির রঙ হলো গাঢ় মেরুন বা কালচে লাল এবং অ্যাওয়ে বা দ্বিতীয় জার্সির রঙ সাদা।

সম্ভাব্য ফরমেশন

কাতার জাতীয় ফুটবল দল সাধারণত তাদের আক্রমণাত্মক ও পজেশন-ভিত্তিক খেলার ধরনের ওপর ভিত্তি করে ৪-২-৩-১ অথবা ৪-৩-৩ ফরমেশন ব্যবহার করে থাকে। দলের কৌশল এবং প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর নির্ভর করে এই ফরমেশনগুলোতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়।

গ্রুপ বিশ্লেষণ

কাতার জাতীয় ফুটবল দল ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে খেলবে। এই গ্রুপে তাদের সঙ্গে আরও রয়েছে কানাডা, সুইজারল্যান্ড এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

ভবিষ্যদ্বাণী

কাতার জাতীয় ফুটবল দল প্রথমবারের মতো নিজেদের যোগ্যতায় ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে তাদের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে গ্রুপ পর্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেদের উন্নতি ও সক্ষমতা প্রমাণ করা।

উক্তি

‘আপনার উৎসাহে আল আন্নাবি আরও শক্তিশালী’