Print Date & Time : 20 October 2026 Tuesday 12:41 pm

সরকারবিরোধী আন্দোলনে নাজেহাল বলিভিয়া, জরুরি অবস্থা জারি

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বলিভিয়ায় টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কারণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং জ্বালানি সংকটের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ায় শনিবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, দেশের সড়কগুলো স্বাভাবিক করতে এবং জনজীবন সচল রাখতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তিনি জানান, এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক সংগঠন, কৃষক এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট এভো মোরালেসের সমর্থকদের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনে সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। সড়ক অবরোধের কারণে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং গত প্রায় ৫০ দিন ধরে দেশের অর্থনীতি প্রায় স্থবির হয়ে আছে।

সরকার জানিয়েছে, আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের দাবি, সহিংসতা ও অবরোধের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে, তাই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রেসিডেন্ট পাজ সাত মাস আগে ক্ষমতায় আসেন এবং তার সময়ে দেশটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। বাজেট ঘাটতি কমাতে জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, গ্যাস রপ্তানি কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতি চাপের মুখে রয়েছে।

গত মাসে তিনি অভ্যন্তরীণ সংঘাতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের অনুমতি দিয়ে একটি আইন স্বাক্ষর করেন। তবে তিনি তখন বলেছিলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে তবেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে।

বাজেট ঘাটতি কমাতে সরকার দীর্ঘদিনের জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহার করার পর মে মাসে দেশটিতে এই অস্থিরতা শুরু হয়। এরপর থেকেই অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি হ্রাস এবং ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশটির অর্থনীতি চরম চাপে রয়েছে। জ্বালানির তীব্র সংকটও দেখা দিয়েছে।

শ্রমিক সংগঠনগুলো প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং ডলার সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ