Print Date & Time : 31 October 2026 Saturday 09:52 pm

কেমন হলো এবারের ব্রাজিল স্কোয়াড

image

ডাকনাম: সেলেসাও, ক্যানারিনহো, আমারেলিনহা ও ভার্দে আমারেলা।

কনফেডারেশন: কনমেবল (দক্ষিণ আমেরিকা)।

কোচ: কার্লো আনচেলত্তি।

ফিফা র‍্যাংকিং: ষষ্ঠ দল।

পরিচালনা সংস্থা: ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন।

দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্ব

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাছাইপর্ব থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ দল হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ যাত্রা

২০২৬ সালের আসরেও ব্রাজিল নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়েই যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে তারা বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত।

দলের খেলার ধরন

ব্রাজিল ফুটবল দল ঐতিহ্যগতভাবে আক্রমণাত্মক, নান্দনিক এবং বল-নিয়ন্ত্রণ ভিত্তিক ফুটবল খেলে থাকে, যা ‘জোগো বোনিতো’ (সুন্দর খেলা) নামে পরিচিত। এই শৈলীটি মূলত ব্যক্তিগত দক্ষতা, জিঙ্গা নামক ছন্দময় ড্রিবলিং, দ্রুতগতি এবং সৃজনশীলতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
ব্রাজিলিয়ান খেলার ধরনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো:

জোগো বোনিতো (নান্দনিকতা): ব্রাজিল শুধু জেতার জন্য নয়, বরং খেলা উপভোগ করার জন্য খেলে। বল পজিশন এবং প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার জন্য ড্রিবলিং-এর ওপর বেশি জোর দেয়।

জিঙ্গা স্টাইল: এটি একটি ছন্দময় শরীরের দোলা, যা ড্রিবলিং করার সময় প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে ব্যবহার করা হয়। এটি ব্রাজিলের আদিবাসী ও আফ্রিকান সংস্কৃতির মিশ্রণে তৈরি।

ব্যক্তিগত দক্ষতা ও সৃজনশীলতা: খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং অভাবনীয় মুভ দেখানোর জন্য স্বাধীন, যা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে সহজেই ভেঙে ফেলতে পারে।

আক্রমণাত্মক মানসিকতা: দলগতভাবে আক্রমণ করা এবং বেশি গোল করার প্রবণতা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের মূল লক্ষ্য।

বল কন্ট্রোল এবং পাসিং: ছোট ও দ্রুত পাসের মাধ্যমে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া। আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্রাজিল তাদের শৈলীতে কৌশলগত শৃঙ্খলা ও রক্ষণাত্মক দৃঢ়তাও যোগ করেছে, তবে মূল দর্শন সব সময়ই নান্দনিক আক্রমণাত্মক ফুটবল।

মূল তারকা ফুটবলার

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র: দলের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফরোয়ার্ড, যিনি গতি ও ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগ ভাঙতে সক্ষম। রদ্রিগো গোয়েস: রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ব্রাজিলের হয়ে বহুমুখী ফরোয়ার্ড হিসেবে জ্বলে উঠেছেন। নেইমার জুনিয়র: দলের অভিজ্ঞতম তারকা, যদিও ইনজুরি তার সাম্প্রতিক ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করেছে। 

নজরকাড়া উদীয়মান খেলোয়াড়

এন্ড্রিক: পালমেইরাসের এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হিসেবে পরিচিত। ১৭ বছর বয়সেই তিনি রিয়াল মাদ্রিদে স্থান নিশ্চিত করেছেন এবং ব্রাজিলের সিনিয়র দলের হয়ে ওয়েম্বলিতে গোল করে রেকর্ড গড়েছেন। এস্তেভাও উইলিয়ান: মাত্র ১৭ বছর বয়সি এই উইঙ্গারকে ‘মেসিনিও’ বলা হয়। পালমেইরাসের এই খেলোয়াড় ইতোমধ্যেই চেলসির সঙ্গে চুক্তি করেছেন এবং তার ড্রিবলিং ও খেলার স্টাইল মেসিকে মনে করায়।

কোচ ও তার কৌশল

আনচেলত্তি রক্ষণভাগ ও আক্রমণ ভাগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পছন্দ করেন। তিনি রিয়াল মাদ্রিদে যেমন আক্রমণাত্মক ফুটবলের পাশাপাশি শক্ত রক্ষণ তৈরি করেছিলেন, ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও একই লক্ষ্য। তিনি পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দ্রুত কৌশল বদলাতে পারেন। রক্ষণাত্মক কৌশলে থেকে প্রতিআক্রমণ বা পজিশন ভিত্তিক ফুটবল—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি পারদর্শী।

শক্তি ও দুর্বলতা

শক্তি: ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, এনড্রিক এবং রাফিনহার মতো গতিশীল ও দক্ষ ফরোয়ার্ডরা বিশ্বের যেকোনো রক্ষণভাগকে ভাঙতে সক্ষম। অ্যালিসন বেকার ও এদেরসনের মতো বিশ্বমানের গোলরক্ষক দলের অন্যতম বড় শক্তি, যারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। ব্রুনো গুইমারেস ও লুকাস পাকুয়েতার মতো খেলোয়াড়রা মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন।

দুর্বলতা: দলের বড় অংশ তরুণ হওয়ায় বড় টুর্নামেন্টের চাপে খেই হারিয়ে ফেলার প্রবণতা রয়েছে। ফুলব্যাক পজিশনে আগের মতো শক্তিশালী খেলোয়াড়ের অভাব এবং সেন্টার ব্যাকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা যায়। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং প্রতিপক্ষ দলের শক্ত রক্ষণভাগের বিরুদ্ধে গোলের সুযোগ তৈরি করতে সমস্যা।

বিশ্বকাপ সাফল্য
পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন: ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, এবং ২০০২ সালে। একমাত্র দল: যারা চারটি মহাদেশে আলাদাভাবে বিশ্বকাপ জিতেছে। সব আসরে সরাসরি অংশগ্রহণ- ব্রাজিল কখনই বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েনি বা প্লে-অফের মুখোমুখি হয়নি।

স্মরণীয় মুহূর্ত

১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিল ৪-১ হারায় ইতালিকে। অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞের মতে, এটি সর্বকালের সেরা দল এবং ম্যাচ। পেলে, জাইরজিনহো, রিভেলিনো এবং কার্লোস আলবার্তোর সমন্বয়ে গঠিত এই দল ফাইনালে ইতালিকে বিধ্বস্ত করে। কার্লোস আলবার্তোর শেষ গোলটি এখনও বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা দলগত গোল হিসেবে গণ্য করা হয়।

সংস্কৃতি ও সমর্থক

ব্রাজিল ফুটবল দলের সংস্কৃতি ও তাদের সমর্থকদের আবেগ বিশ্বজুড়ে অনন্য। ফুটবল সেখানে কেবল একটি খেলা নয়, বরং জাতীয় পরিচয়, আবেগ এবং জীবনযাপনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।


মজার তথ্য

বর্তমানের আইকনিক হলুদ জার্সিটি ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপের আগে ছিল না। ওই বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের পর, সাদা জার্সি থেকে তারা বর্তমানের হলুদ ও সবুজ জার্সিতে পরিবর্তন আনে, যা জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে মিলে যায়।

সম্ভাব্য একাদশের ফর্মেশনে 

ব্রাজিল ফুটবল দলের একটি শক্তিশালী সম্ভাব্য একাদশ ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে সাজানো যেতে পারে।

গ্রুপ বিশ্লেষণ

ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে এবং তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি। এটি তুলনামূলক সহজ গ্রুপ হলেও, ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে। কোচ আনচেলত্তির অধীনে নতুনরূপে সজ্জিত ব্রাজিল এই গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার ফেভারিট।

ভবিষ্যদ্বাণী

অত্যন্ত শক্তিশালী ও আক্রমণাত্মক স্কোয়াড নিয়ে হেক্সা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নামবে।

উক্তি

‘ব্রাজিল ফুটবল খেলে না, মাঠে শিল্প সৃষ্টি করে।’