Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 07:04 am

বেনজীরের সেই ডুপ্লেক্স বাড়িটি ফের আলোচনায়

image

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় তার সম্পদের পাহাড় নিয়ে। তার আলোচিত সম্পদের একটি হলো সাভানা ইকো রিসোর্ট। বেনজীর আহমেদ সম্প্রতি দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত সেই ডুপ্লেক্স বাড়িটি। বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে মানুষ। 
পূর্বাচলের দক্ষিণবাগ এলাকায় গুতিয়াব মৌজায় অবস্থিত ‌‘আনন্দ হাউজিং সোসাইটি’র ছয়টি প্লটের ২৪ কাঠা জমির ওপর ২০২২ সালের দিকে বাড়িটি নির্মাণ করা হয় ‘সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়িটি। 
২০২৪ সালে আদালত কর্তৃক বাড়িটি ক্রোক হওয়ার পরে পুরোপুরি রাষ্ট্রের অধীনে চলে যায়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বাড়িটির সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। বর্তমানে বিশাল আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়িটি সরকারি হেফাজতেই রয়েছে। একসময় ক্ষমতাধর পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের পা পড়লে এই বাড়িটির আশপাশের এলাকা থমথমে হয়ে যেত। নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সরব উপস্থিতি ও পদচারণায় মুখর হয়ে উঠত। গত দুই বছর আগে আদালত কর্তৃক বাড়িটি ক্রোক হওয়ার পর থেকে আলিশান বাড়িটিতে এখন সুনসান নীরবতা।
তবে বেনজির আহমেদের গ্রেপ্তারের খবরে রূপগঞ্জের এই ডুপ্লেক্স বাড়িটি ঘিরে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ বাড়িটি দেখতে আসছেন।
ডুপ্লেক্স বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা আউয়াল মোল্লা বলেন, ‘এক সময় বেনজীর আহমেদ এই বাড়িতে আসলে আশপাশের এলাকা থমথমে হয়ে যেত। নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের লোকজনে ভরে যেত। সাধারণ মানুষজন এ পথে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারত না।’
ডুপ্লেক্স বাড়িটি দেখতে আসা দর্শনার্থী সিফাতুল মারুফ বলেন, ‘শুনেছি পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদের ২৪ কাঠা জমির ওপর তৈরি সাভানা ইকো রিসোর্ট নামে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে। উনি দুবাই এয়ারপোর্টে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এটা নিয়ে মানুষের মুখে খুব আলোচনা শুনেছি। তাই বাড়িটি দেখতে আসলাম।’
আলিশান এই বাড়িটির কেয়ারটেকার রতন মিয়া বলেন, ‘এই বাড়িটি নির্মাণের আগে থেকেই আমি এখানে কাজ করছি। বাড়ির মালিকের নামে মামলা হওয়ায় এই বাড়িটি আদালত কর্তৃক ক্রোক করে। তাই বাইরের কোন মানুষ এখানে আসতে পারে না।’
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, ‘এখানে যে বাংলো বাড়িটি রয়েছে সেটিতে আদালতের নির্দেশে আমাদের রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে এটি আমরা দেখাশোনা করছি। আমাদের এখানে সিকিউরিটি নিয়োগ দেওয়া আছে এবং এটি আমরা সবসময় আমাদের নজরে রেখেছি। ওখানে বাড়ির মধ্যে যে সমস্ত জিনিসপত্র ছিল সেগুলো আমরা দেখাশোনা করছি।’