Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 04:34 am

নবম পে-স্কেলে দ্বিগুণ হচ্ছে পেনশন, বাস্তবায়নের সুপারিশ

image

অর্থনীতি ডেস্ক: প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে নিম্ন আয়ের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবীদের মাসিক পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ করার প্রাথমিক সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে জাতীয় বেতন কমিশনের তৈরি করা এই খসড়া প্রস্তাবনায় দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় ধরণের পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

জানা গেছে, সময় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের নির্ধারিত সময় প্রকাশ করা হয়নি। তবে শিগগিরই গেজেট প্রকাশ করা হবে। এর জন্য পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। চূড়ান্ত এই রূপরেখা অনুযায়ী, একবারে পে স্কেল বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

মোট তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে। নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের অর্থাৎ বেসিকের ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেসিকের শতভাগ বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে বলেও আলোচনা হচ্ছে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই (২০২৬) হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য কমিয়ে সমতাভিত্তিক সুষম উন্নয়নে বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিন স্তরে পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে যাদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ এসেছে। মাসিক ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।

এদিকে, নতুন বেতন কাঠামোতে কেবল মূল বেতন নয়, বরং শিক্ষা, টিফিন ও বৈশাখী ভাতাতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতা বর্তমানের ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সন্তানদের মাসিক শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ