Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 09:32 am

এক কোটি কর্মসংস্থানের নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার

image

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা যাচাই ও নতুন শ্রমবাজার খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

বুধবার (১০ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি ৭১) নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে আরও সম্প্রসারণ এবং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির লক্ষে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনশক্তি রপ্তানির ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত আরও সম্প্রসারিত হয় এবং ২০০১ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।’

দক্ষ জনশক্তি তৈরির নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, দেশের ১৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ছয়টি মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে ৫৫টি ট্রেডের ১৩০টি পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৯টি বিদেশি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

এর বাইরে ৫০টি উপজেলায় নতুন কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। বিদেশফেরত কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পুনরায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এছাড়া দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এক লাখ দক্ষ চালক তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ চালুর কথাও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের তাকামুলের সঙ্গে চুক্তির আওতায় বর্তমানে ৩০টি প্রতিষ্ঠানে ৭৯টি পেশায় স্কিল টেস্ট পরিচালিত হচ্ছে।


দেশের ৬০টি টিটিসিতে জাপানিজ, কোরিয়ান, ইংরেজি, আরবি, জার্মান, ম্যান্ডারিন, ইতালিয়ানসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং সাধারণ প্রবাসীদের জন্য ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওমান, মালয়েশিয়া ও বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

২৮টি সম্ভাব্য শ্রমবাজারের মধ্যে ১৮টি দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ওমান ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে নতুন চুক্তি প্রক্রিয়াধীন।’

সম্প্রতি কাতারের শ্রমমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কাতার টেকনিক্যাল খাতে বিশেষ করে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডারদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ইউরোপের শ্রমবাজারের বাধা কাটানোর বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা থাকলেও ভিসা সেন্টারের অভাবে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এসব দেশের ভিসা কার্যক্রম সহজ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ঢাকায় নিয়মিত কনস্যুলার সেবা প্রদান করে।’

—জা.অর্থনীতি/আরএস