Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 02:34 am

হজ থেকে ফিরার পর একজন হাজির প্রথম কাজ কী?

image

রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একটি মকবুল হজ মানুষের আগের সব গুনাহ এমনভাবে মুছে দেয়, যেন সে আজই মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হলো। কিন্তু এই যে বিশাল আধ্যাত্মিক সার্টিফিকেট নিয়ে একজন মানুষ সমাজে ফিরলেন, তার আসল পরীক্ষা কিন্তু তখনই শুরু হয়। আচ্ছা, হজ থেকে ফেরার পর সমাজে একজন হাজির জীবন কেমন হওয়া উচিত? কেন বলা হয়, হজের পর জীবন না বদলালে সেই হজ কবুল হওয়াই সন্দেহের মুখে পড়ে যায়?

হজ থেকে ফিরে আসার পর একজন হাজির প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো নিজের এই নিষ্পাপ অবস্থাকে আমৃত্যু ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা। মুসলিম মনীষীরা বলেন, নেক কাজের আসল পুরস্কার হলো, সেই কাজের পর আরও নেদক কাজ করার তাওফিক পাওয়া। তাই হজ থেকে ফেরার পর একজন হাজির জীবনের মোড় এবং কর্মের অভিযাত্রা সম্পূর্ণ ঘুরে যেতে হবে। তার ভেতর তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের দীক্ষা এমনভাবে প্রকাশ পাবে, যেন তার দ্বারা সমাজে কোনো অন্যায় ছড়াতে না পারে।

সমাজ গঠনে এবং সুন্নাহর আলো ছড়াতে একজন হাজির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক দায়িত্ব রয়েছে:

সফর থেকে ফিরে নিকটস্থ মসজিদে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা আল্লাহর রাসুলের সুন্দর একটি সুন্নত। এছাড়া, লোকদেখানো বা অহংকার ছাড়া আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ গরিব-মিসকিন ও আত্মীয়দের জন্য খাবারের আয়োজন করা বৈধ, যাকে ইসলামি পরিভাষায় ‘নকিয়াহ’ বলা হয়।

বরকতময় জমজমের পানি মানুষকে পান করানো এবং আত্মীয়-পরিজনকে হাদিয়া বা তোহফা দেওয়া সুন্নত। তবে মনে রাখতে হবে, এটি যেন লোকলজ্জা বা সামাজিক প্রথা রক্ষার জন্য না হয়, বরং হতে হবে একান্তই মন থেকে ও ভালোবাসার স্মারক হিসেবে।

আমরা নিয়মিত নামাজ পড়লে কাউকে ‘নামাজি সাহেব’ বলি না, তাহলে হজ করলেই কেন ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’ উপাধি নিজের নামের আগে জোড়াতে হবে? স্বপ্রণোদিত হয়ে এই উপাধি ব্যবহার করা বা কেউ এই নামে না ডাকলে মনে কষ্ট পাওয়া এক ধরনের রিয়া বা অহংকার। মানুষের দেওয়া উপাধির চেয়ে রবের দরবারে আমলের গ্রহণযোগ্যতাই আসল।

একজন সাধারণ মানুষের অসৎ আচরণের চেয়ে একজন হাজির সামান্য অন্যায় সমাজে অনেক বেশি দৃষ্টিকটু লাগে। তাই হজ-পরবর্তী জীবনে লেনদেনে শতভাগ হালাল থাকা, সুদ-ঘুষ বর্জন করা এবং পিতা-মাতা, প্রতিবেশী ও সাধারণ মানুষের হক আদায়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকাই একজন হাজির মূল সামাজিক দায়িত্ব।

হজ কোনো সামাজিক মর্যাদা পাওয়ার হাতিয়ার নয়, এটি রবের চরণে নিজেকে সঁপে দেওয়ার এক পরম অধ্যায়। হজ থেকে ফিরে আসা মানে সমাজে একজন জীবন্ত আদর্শের জন্ম হওয়া। আসুন, লোকদেখানো আচার-অনুষ্ঠান পরিহার করে হজের ভেতরের আধ্যাত্মিক আলো দিয়ে নিজেদের পরিবার ও সমাজকে আলোকিত করি।

জা.অর্থনীতি/ উমর