Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 12:34 am

বাংলাদেশেও কি বাড়ছে ক্লাউডবার্স্টের ঝুঁকি?

image

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশে চলতি গ্রীষ্মে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে ‘মেঘভাঙা বৃষ্টি’ বা ক্লাউডবার্স্ট।

ভারতের দিকে ধেয়ে আসা বিশাল মেঘমালার উপগ্রহ চিত্র সামনে আসার পর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এর প্রভাব কি বাংলাদেশেও পড়তে পারে?

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মেঘভাঙা বৃষ্টির কোনও ঝুঁকি নেই।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতের উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর ধরালি গ্রামে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

মেঘভাঙা বৃষ্টি বা ক্লাউডবার্স্ট কী

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কোনও ছোট এলাকায় (প্রায় ১ থেকে ১০ কিলোমিটার) এক ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হলে তাকে ক্লাউডবার্স্ট বা মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা হয়।

এ ধরনের বৃষ্টিতে স্বল্প সময়ে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ঘটে, যা স্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির তুলনায় অনেক বেশি তীব্র ও ক্ষতিকর।

আবহাওয়াবিদদের মতে, উষ্ণ ও ঠান্ডা বায়ুর সংঘর্ষে ঘন মেঘ তৈরি হয়। উষ্ণ বায়ু দ্রুত ওপরে উঠতে থাকলে মেঘে থাকা জলকণা বৃষ্টির আকারে নেমে আসার সুযোগ পায় না, বরং মেঘের ভেতরেই জমতে থাকে।

পাহাড়ি অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া আরও সক্রিয় হয়, যাকে বলা হয় ‘অরোগ্রাফিক লিফট’। এতে পাহাড়ে বাধা পেয়ে আর্দ্র বাতাস দ্রুত ওপরে উঠে ঘনীভূত মেঘ তৈরি করে।

একপর্যায়ে মেঘ অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে না পেরে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টির আকারে নেমে আসে।  

ক্ষয়ক্ষতি

মেঘভাঙা বৃষ্টি হলে অল্প সময়েই ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। পার্বত্য এলাকায় এর সঙ্গে ভূমিধসের ঝুঁকিও থাকে। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা পানির সঙ্গে কাদা ও পাথর মিশে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করতে পারে।

এর আগে ভারতের উত্তরাখণ্ড, সিকিম ও লাদাখে এমন ঘটনা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে।

পূর্বাভাস

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাউডবার্স্ট খুবই ছোট এলাকা ও স্বল্প সময়ে ঘটে বলে নির্দিষ্টভাবে আগাম পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বিস্তৃত এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিতে পারলেও নির্দিষ্ট জায়গায় মেঘভাঙা বৃষ্টি কোথায় হবে, তা নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব।

ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন ও বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটছে। পাশাপাশি বন উজাড়, অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ ও ভূমির ব্যবহার পরিবর্তনের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে মাটির পানি শোষণের ক্ষমতা কমে গিয়ে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে এল নিনো নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলো বলছে, এবার ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো ধেয়ে আসতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা, খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা, খাদ্য সংকটসহ বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।