নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী জুন মাসের ১ তারিখেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিতে তৎপর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ইউনিট প্রতি ১ দশমিক ২০ টাকা (১৭ শতাংশ) থেকে ১ দশমিক ৫০ টাকা (২১ শতাংশ) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। ১৮ থেকে ২০ শতাংশ দাম বাড়ানোর আভাস পাওয়া গেছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গণমাধ্যমে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে আদেশ দেওয়া হবে। তবে এখনই সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা যাচ্ছে না। দাম নির্ধারণের বিষয়ে কাজ চলছে, এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ বলা সম্ভব নয়।
এর আগে গত ২০ এবং ২১ মে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর গণশুনানি গ্রহণ করা হয়।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। ওই আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দর ৬ দশমিক ৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ০৪ টাকা করা হয়। যদিও কোম্পানি ভিত্তিক বিক্রির পার্থক্যের কারণে গড় বিক্রি মূল্য ৬ দশমিক ৯৯ টাকা দাঁড়িয়েছে বলে দাবি বিপিডিবির।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২ দশমিক ১৩ টাকা, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৩ দশমিক ১৬ টাকা আর ২০২২ সালে সাড়ে ৮ টাকার মতো, এখন গড় উৎপাদন খরচ ১৩ টাকার কাছাকাছি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়াকে কারণ দেখানো। তবে সংশ্লিষ্টরা নানা রকম দুর্নীতি অনিয়ম, অসম চুক্তি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ি করে আসছেন।।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) তার প্রস্তাবে বলেছে পাইকারি দাম যে হারে বেড়েছে খুচরা সে হারে বাড়েনি। তাই ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৪৩ কোটি টাকা, পরের বছর ৩০২ কোটি, এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৩৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। লোকসান সামাল দিতে হলে ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো প্রয়োজন।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) প্রস্তাবে রয়েছে, ৮০ টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নীট লোকসান দিয়েছে ১৬৯৮ কোটি টাকা। গ্রাহক পর্যায়ে দাম না বাড়লে চলতি অর্থবছরে ২ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা লোকসান হবে। লোকসান ঠেকাতে হলে ৫ দশমকি ৯৩ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো প্রয়োজন।
অর্থাৎ খুচরা (গ্রাহক) পর্যায়ে দাম বাড়ছে এটা অনেকটাই নিশ্চিত বলা যায়।
—জা. অর্থনীতি/এনজে