Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 05:01 pm

লাম্পি স্কিনের ভয়াবহতা বাড়ছে, কোরবানির বাজার নিয়ে শঙ্কা

image

অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত চর্মরোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি) মহামারি আকার ধারণ করেছে। গত দুই মাসে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলায় অন্তত শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা। এর ফলে কোরবানির পশুর বাজারে বড় ধরনের ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, মতলব উত্তরে ছোট-বড় মিলিয়ে গবাদিপশুর সংখ্যা ৫৫ হাজারের উপরে থাকলেও গত ৬ মাসে সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৭০০ ভ্যাকসিন। ফলে বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু এই মরণব্যাধির ঝুঁকিতে রয়েছে। দপ্তরের দাবি অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা ৭০ হলেও মাঠ পর্যায়ের তথ্যে এই সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে এবং বর্তমানে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা কয়েক সহস্রাধিক। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার খাগকান্দা গ্রামের হোসনেয়ারা বেগমের আড়াই লক্ষ টাকা মূল্যের কোরবানির গরু গত ১১ মে মারা গেছে। এ ছাড়া ওটারচর গ্রামের আতাউর রহমান সরকারের ১ লক্ষ টাকা মূল্যের গাভী এবং অটোচালক কাশেম মিয়ার ৯০ হাজার টাকার গরুও এই ভাইরাসের বলি হয়েছে। দুলালকান্দি ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নেও একাধিক গরু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম হলেও দুগ্ধ, চামড়া ও মাংস শিল্পে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আক্রান্ত পশুর চামড়া স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারমূল্য কমে যাচ্ছে এবং আক্রান্ত গাভীর দুধ উৎপাদন প্রায় শূন্যে নেমে আসায় খামারিরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ঈদের আগে রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ৩৩টি গরু থাকা খামারি গাজী কামাল হোসেনের মতো বড় উদ্যোক্তারাও ব্যবসায়িক ধসের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষুদ্র খামারি আতাউর রহমান আক্ষেপ করে জানান যে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অনেক টাকা খরচ করেও তার গরুটি বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র দাস স্বীকার করেছেন যে ভ্যাকসিনের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। চিকিৎসকদের মতে এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই, কেবল লক্ষণ দেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তিনি খামারিদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার এবং আক্রান্ত পশুকে দ্রুত আলাদা করে পরিচর্যা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

—জা.অর্থনীতি/এএইচএ